ছিদ্দিকুর রহমান সোহেল: সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেছে। কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর কেটেছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। অবশেষে সেই বন্দিজীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আলোচিত দুলাল হত্যা মামলার আসামি কালুর।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ভোলা জেলা কারাগার থেকে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজার এলাকায় একটি ঘর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কালু ও দুলাল পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে গুলির ঘটনায় দুলাল নিহত হন। এ ঘটনায় কালু ও তাঁর সহযোগী শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে হত্যা মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত কালু ও শাহাবুদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই রায়ের পর দীর্ঘ সময় কারাগারে সাজা ভোগ করে আসছিলেন তাঁরা।
কারাগারে সাজা ভোগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত দণ্ডের পাশাপাশি কারাবিধি অনুযায়ী বন্দির কারাবাসের হিসাব, আচরণ, কাজ ও প্রাপ্য রেয়াতসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বন্দির মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
একসময় যে হত্যাকাণ্ড রাজাপুরের শান্তির হাট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, প্রায় ২৭ বছর পর সেই মামলার অন্যতম আসামি কালু কারাগারের বাইরে আসছেন। তাঁর মুক্তির খবরে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ও অপেক্ষার আবহ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ কারাবাসের পর নতুন বাস্তবতায় পরিবারের কাছে ফিরবেন কালু। সামনে অপেক্ষা করছে জীবনের নতুন অধ্যায়।
তবে আলোচিত এই মামলার ঘটনা, আদালতের রায় ও কারাভোগের পূর্ণাঙ্গ সময়কাল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি ও কারা কর্তৃপক্ষের রেকর্ড যাচাই করাই চূড়ান্ত ভিত্তি।