• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বোরহানউদ্দিনে জেলেদের প্রণোদনায় ‘নাম আছে, জেলে নেই’—বঞ্চিত প্রকৃত উপকারভোগী আজ ২৯ এপ্রিল ইতিহাসের এই দিনে লন্ডভন্ড হয় ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকা ভোলায় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ভোলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের রাস্তা। ‎বোরহানউদ্দিনে সরকারের টিফিনে শিক্ষার্থীদের জন্য কাঁচা কলা, ক্ষোভ অভিভাবকদের রিয়াজ সভাপতি সোহেল সম্পাদক, ভোলায় মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠন। ভোলায় ইজিপিপি’র আওতায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন  ভোলায় ইএসডিও’র উদ্যোগে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত, ১১৭ জনের চাকরি নিশ্চিত ভোলায় ইজিপিপি’র আওতায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে তেতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনে এক লাখ টাকা জরিমানা “নিখোঁজ সংবাদ”সাগর চন্দ্র দে গত ১৫ এপ্রিল আনুমানিক সকাল ১১ টায় বাসা থেকে বের হয়েছে আর আসে নাই। যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি তাকে বা তার সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন।মোবাইল নাম্বার : 01323001045

বোরহানউদ্দিনে জেলেদের প্রণোদনায় ‘নাম আছে, জেলে নেই’—বঞ্চিত প্রকৃত উপকারভোগী

NEWS ROOM / ১ বার ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:

‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)-এর আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা ১ হাজার ৮০০ জেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও, প্রকৃত জেলেদের বড় একটি অংশ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।

‎জানা গেছে, ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার বিনিময়ে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে সরকার। এর উদ্দেশ্য হলো ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এবারের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।

‎স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, তালিকা তৈরিতে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা বা যথাযথ যাচাই-বাছাই অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে যারা বছরের পর বছর নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

‎ভুক্তভোগী একাধিক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা নিয়মিত মাছ ধরলেও এবার তাদের নাম তালিকায় নেই। অথচ এমন অনেকেই প্রণোদনা পেয়েছেন, যারা কখনো নদীতে মাছ ধরেন না। একজন জেলে বলেন, “আমরা সারা বছর নদীতে কষ্ট করি, কিন্তু তালিকায় আমাদের নাম নেই। যারা জেলে না, তারাই খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে।” অন্য একজনের অভিযোগ, তালিকা প্রণয়নের সময় তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ বা যাচাই করা হয়নি।

‎অভিযোগ উঠেছে, তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রভাব স্পষ্টভাবে কাজ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন বা ঘনিষ্ঠদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে; বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে জেলেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

‎এ অনিয়মের কেন্দ্রে রয়েছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তালিকা প্রস্তুত হওয়ায় এ দায় তার দপ্তর এড়াতে পারে না। তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎সচেতন মহল মনে করছে, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতে থাকলে জেলেদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ আরও বাড়বে।

‎ভুক্তভোগী জেলেরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং প্রকৃত জেলেদের তালিকা পুনঃনির্ধারণ করে তাদের প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি