ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সরকারের বরাদ্দকৃত স্কুল টিফিন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নমানের ও কাঁচা কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক, এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে অনুপযোগী খাবার সরবরাহ করায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার ১০৮ নং মধ্যে পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের জন্য কাঁচা কলা সরবরাহ করতে গেলে স্থানীয়রা হাতেনাতে তা আটক করেন। এ সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আনা কলাগুলো অত্যন্ত কাঁচা, শক্ত এবং খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী। শিশুদের জন্য এমন খাবার সরবরাহ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে নিয়মিত টিফিন সরবরাহ করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে মান বজায় রাখা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক মানের খাবার সরবরাহ না করে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে নিম্নমানের কলা বিতরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরবরাহের জন্য আনা কলার চালান দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সরবরাহকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন।
একাধিক অভিভাবক জানান, শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারে এমন নিম্নমানের পণ্য দেওয়া দুঃখজনক। অনেক শিক্ষার্থী কাঁচা ও শক্ত কলা খেতে পারে না, এতে বরাদ্দের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলেন, পুষ্টি নিশ্চিতের নামে নিম্নমানের খাবার দিয়ে শিশুদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টিফিন সরবরাহে মান যাচাই এবং মনিটরিংয়ের ঘাটতির সুযোগে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে এসব খাবার পৌঁছানো হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ফলে সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার নিয়ে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও স্থানীয়দের দাবি, সরবরাহকৃত কলার মান যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত টিফিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলের মতে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।