• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভোলার ভেদুরিয়ায় শিশু ধ/র্ষ/ন প্রধান আসামী বান্দরবন থেকে গ্রেপ্তার নেইমারের প্রত্যাবর্তনে উজ্জীবিত ব্রাজিল,স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারাল সেলেসাওরা। ভোলা শহরের প্রধান সড়কে অসংখ্য অটোরিকশার কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট; দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। ভোলার এক সময়ের কোলাহলময় খেয়াঘাট এখন সুনশান নীরব। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় দিন দিন হারাচ্ছে তার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব। লালমোহনে খালখনন প্রকল্পের এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সংস্কারের অভাবে জীর্ণ দশায় বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল। নতুন করে নির্মাণের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নের দেখা নেই। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে ওয়ালটন প্লাজা গ্রামীণ জনপদের একমাত্র ভরসা ভোলা সদরের ভেলুমিয়া ১০ শয্যার হাসপাতাল। লালমোহনে ব্রিজ ধসের ট্র্যাজেডি: ট্রাকচালক “নি”হ”ত, হেলপার আহত ভোলার বাজারে ক্রেতা কম সাগর-নদীতে ইলিশ সংকট, বাজারে চড়া দাম।

বৃদ্ধাশ্রমে থেকেও সন্তানদের সম্মান নিয়ে ভাবেন বাবা!

NEWS ROOM / ১৩১ বার ভিউ
আপডেট : রবিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৩

ইয়ামিন হোসেন।

সন্তানদের মানুষের মত মানুষ গড়তে একজন বাবা কতটা পরিশ্রমী হয় এটা কারো অজানা নয়। জীবন যৌবন, সুখ সব কিছুই বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মুখে হাঁসি ফুটিয়ে তুলেন একজন সংগ্রামী বাবা। আর সেই বাবা যদি শেষ বয়সে এসে রোগে শোকে মৃত্যুর প্রহর গুনে বৃদ্ধাশ্রমে। এটা কোন সন্তানদের জন্যই শুভ লক্ষ্মণ হতে পারে না। ভোলা সদরের পৌর কাঠালী ৮নং ওয়ার্ডে ভোলার দানবীয় ব্যক্তি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠে নিজাম হাসিনা বৃদ্ধাশ্রম।
সেখানে ১৭/২০ জন বৃদ্ধা থাকেন। (বেশি কম ও থাকে) সেই বৃদ্ধা বাবাদের ঈদ কেমন কেটেছে খোঁজ নিতে গিয়ে ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন অথাৎ (২৩শে এপ্রিল) এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়, বৃদ্ধাশ্রমের বিছানায় রোগে শোকে থাকা জাহাঙ্গীর ডাক্তারের সাথে। কেমন আছেন এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে অশ্রুঝরা চোঁখে থাকিয়ে আছেন জাহাঙ্গীর। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা জাহাঙ্গীর মনে করেছে এ যেন তার কোন স্বজন এসেছে তার খোঁজ নিতে কিন্তু যখনই দেখলো স্বজনরা আসেনি। তখনই মুখটা মলিন করে চুপ হয়ে যান। ঈদ কেমন কাটলো? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন আমিতো এখান থেকে উঠতেই পারিনা, সারাদিনই শুয়ে থাকি। আমার হাত পা তেমন চলে না। আপনার বাড়ী থেকে কেউ দেখতে আসছে? ৪ মাস পর একটা ছেলে আর নাতী আসছে। এক প্যাকেট কাচ্চি বিরানি নিয়ে। আপনার স্বজনদের জন্য মায়া হয়না? মায়া হলে কি করুম, তাদের তো মায়া নাই তাই আমার ও নাই তবে ছোট নাতীর জন্য একটু মায়া হয়। তাই কাল ১ হাজার টাকা দিয়ে দিসি নাতিরে। আপনি টাকা পান কই? মানুষে দেয়। আপনার সেই পুরানো ওষুধের ফার্মেসী আছে? হুম ৪৩ বছরের পুরানো দোকানে আমার ছেলেরা আছে। অর্থ সম্পদ আছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এগুলো বলে কষ্ট দিবেন না। এসব মনে পরলে আমার কষ্ট হয় বলে চুপ হয়ে যান জাহাঙ্গীর। এক প্রশ্নে নিজের সন্তানদের বা আত্মীয়-স্বজনদের পরিচয় দিতেও নিষেধ করেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এই ব্যক্তি। সন্তান বা স্বজনরা দুরে থাকলেও রোগে শোকে কাতর হওয়া জাহাঙ্গীর তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করেন, ভাবেন। জাহাঙ্গীর বলেন, অনেক কষ্ট হয়, বাথরুমে যেতে পারিনা, সারাদিনই শুয়ে থাকি। জাহাঙ্গীর মিয়া বড় নিঃশ্বাস পেলে বলেন ডাক্তার আবদুল মালেক কে উছিয়ত করে গেছি এবং আমার মেয়ে কে ও বলছি। আমার মৃত্যুর পর লাশটা যেন ভোলা গোরস্তান মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বৃদ্ধাশ্রমের কেয়ারটেকার আবুল কালাম বলেন, জাহাঙ্গীর মিয়া অনেক টাকা পয়সা আছে শুনেছি। তার ছেলেরা ডাক্তার তবে পারিবারিক ঝামেলায় তিনি এখানে থাকেন তবে আমরা সব্বোর্চ চেষ্টা করি বৃদ্ধা মানুষরা যাতে স্বজনের কষ্ট অনুভব করতে না পারে। সেই ভাবেই সেবাযত্ন করি। বর্তমানে অন্য বৃদ্ধারা ঈদের দিন বিকালে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে বেড়াতে গেলেও এই জাহাঙ্গীর মিয়া এখানেই আছে তাই আমার বাড়ী থেকে খাবার এনে দেই।
বিঃদ্রঃ জাহাঙ্গীর ডাক্তারের অনুরোধে পুরো পরিচয় তুলে ধরা হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি