• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিএসএমএমইউয়ে মুজিব শতবর্ষ লিভার প্রতিস্থাপন প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন।

NEWS ROOM / ১৪১ বার ভিউ
আপডেট : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

বিএসএমএমইউয়ে মুজিব শতবর্ষ লিভার প্রতিস্থাপন প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন
বিএসএমএমইউয়ে শীঘ্রই নিয়মিত লিভার প্রতিস্থাপন করা হবেঃ বিএসএমএমইউ উপাচার্য
বছরে প্রায় ৫ হাজার রোগীকে লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘মুজিব শতবর্ষ লিভার প্রতিস্থাপন প্রোগ্রাম’এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টায় (১৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সি-ব্লকে হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগে প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ সেবাকে আরও সম্প্রসারিত করার জন্য ইতিমধ্যে সুপার স্পেলাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। এ হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপনকে গুরুত্ব দিয়ে ১০০টি শয্যা রাখা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত সকল চিকিৎসায় এই হাসপাতালে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, শীঘ্রই নিয়মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু করা হবে। এতে করে রোগীদের জীবন যেমন বাঁচবে তেমনি বছরে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এজন্য যা যা করা দরকার সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। কিডনি লিভারসহ সামগ্রিক প্রতিস্থাপনে জোর দেবার লক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পুরোদম কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বলায় হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০ লক্ষ মানুষ লিভার রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা যায় ২৩ হাজার জন মানুষ। বছরে প্রায় ৪ বা ৫ হাজার রোগীকে লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব। সচ্ছল রোগীরাই ত্রিশ লক্ষ থেকে কোটি টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে লিভার প্রতিস্থাপন করছেন। কিন্ত অসচ্ছল রোগী লিভার প্রতিস্থাপন করতে না পেরে মারা যায়। বিশ্বে প্রতি বছর ৩৮ থেকে ৪০ হাজার রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন হয়। এর মধ্যে আমেরিকা ও ইউরোপেই সর্বোচ্চ। দক্ষিণ এশিয়ায় ৩ থেকে ৪ হাজার রোগীর লিভার প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ছয়টি লিভার প্রতিস্থান করা হয়েছে। ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন শুরু হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে আগত রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা দ্বারা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২২ জন লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিএসএমএমইউতে এসেছেন। তার মধ্যে ১২ জন রোগী লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য নির্ধারিত হয়েছেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে বিএসএমএমইউতে লিভার প্রতিস্থাপন নিয়ে গবেষণা ও লিভারের জটিল টিউমার অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকে মডিউল ওটি, কুসা মেশিনসহ আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে।

লিভার প্রতিস্থাপনে গড়ে ১২-১৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।প্রায় ৫টি দক্ষ সার্জিক্যাল লিভার প্রতিস্থাপন দল একত্রে কাজ করে। প্রায় ৫৮ বছর ধরে বিশ্বে এই সার্জারি করা হচ্ছে। লিভার ফেইলর, লিভার সিরোসিস, জন্মগত লিভার সমস্যাতেও লিভার প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন।

লিভার বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য লিভার প্রতিস্থাপন একটি অতি আধুনিক চিকিৎসা। যা পার্শ্ববতী দেশসমূহ বিশেষ করে ভারতে নিয়মিত লিভার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল, মডিউল অপারেশন থিয়েটার , অতি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও কার্যকরী প্রশাসন ব্যবস্থায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ মোঃ আইয়ুব আলী আনসারী পিনু ও মেডিক্যাল অফিসার ডা. সারওয়ার আহমেদ সোবাহান।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রি: জে: ডা. নজরুল ইসলাম খান।

এসময় হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল ) ডা. পবিত্র কুমার দেবনাথ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদনা: সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইয়ার ই মাহাবুব ও সুব্রত বিশ্বাস। ছবি: আরিফ খান ও মো: সোহেল গাজী। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার ও সুব্রত মন্ডল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি