স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলায় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্য ইসমাইল হোসেন টিটু নিহত হওয়ার ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটির চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার রাতে নিহতের ভাই মহসিনের করা সড়ক পরিবহন আইনে তাদের আটক করে পুলিশ।
গতকাল বুধবার (২৪ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফরহাদ সরদার নিহত ইসমাইলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বজনদের সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ঘাতক ট্রাকটির ডান পাশের হেডলাইন নষ্ট ছিল। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে ট্রাকটির স্পিড বেশি ছিল বলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ইলিশা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ঘাতক ট্রাকটি সিএনজিটিকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে ইলিশা ফেরিঘাটের দিকে চলে যায়। পরে ট্রাকটি রাস্তার পাশে থামিয়ে চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। আটকের পর প্রাথমিকভাবে গাড়িটির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। গাড়িটির ফিটনেস ছিল। তবে এর (গাড়িটির) ডান পাশের হেডলাইন নষ্ট ছিল। বাঁ পাশের হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়িটি চলছিল।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, একটি হেডলাইট দিয়ে গাড়িটি দ্রুত গতিতে চলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সিএনজি চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। চালক জানিয়েছেন, তিনি সিএনজিটি সঠিকভাবেই চালিয়েছেন। এর (সিএনজি) গতিও স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে নিহত ইসমাইলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার হওয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার। এসময় তাঁর সঙ্গে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন ছিলেন। পুলিশ সুপারকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত বিজিবি সদস্যের স্বজনরা। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ইলিশা বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মো. ইসমাইল হোসেন টিটু নামে এক বিজিবি সদস্য নিহত হন। এছাড়াও এ ঘটনায় মো. সুমন ও আকবর নামে দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।
নিহত ইসমাইল খাগড়াছড়ির মাড়িশা বিজিবি ক্যাম্পে ল্যান্স নায়েকের দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে ১৭ দিনের ছুটি নিয়ে তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মুছাকান্দিতে আসেন তিনি। এ সময় ঘাতক ট্রাক তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। ইসমাইলের একটি ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে