• রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজে ডিগ্রি (পাস) ১ম বর্ষে ভর্তি চলছে বেগম খালেদা জিয়া: গৃহবধূ থেকে ‘আপসহীন নেত্রী’—এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে ভোলায় প্রতিবছর গৃহহারা হাজারো মানুষ ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ভোলা–ঢাকা এমভি দোয়েল পাখি-৮ লঞ্চে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ভোলায় জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন সভাপতি আমিন খান,সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মোল্লা মনপুরায় রাতভর কোস্ট গার্ডের অভিযান, ‘স্বপন বাহিনী’র দুই সহযোগী আটক বৈরি আবহাওয়ায় তুলাতলী মেঘনা পাড়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা নদীর পাড়ে ঘোরাঘুরি—নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন! মিয়ানমারে পাচারের আগেই ২৯৩ বস্তা সার জব্দ,আটক ৪ / চরফ্যাশনে ভোররাতের অভিযানে ট্রাক ও ফিশিং বোট জব্দ;নৌপথে পণ্য পাচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন! ভোলায় ৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক,নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসকদের তৎপরতা!

দক্ষ তদন্তে ভোলা জেলা পুলিশের সাফল্য: সাত মাস পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

NEWS ROOM / ২৮১ বার ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

দক্ষ তদন্তে ভোলা জেলা পুলিশের সাফল্য: সাত মাস পর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ, ভোলা: 

দীর্ঘ সাত মাসের নিবিড় তদন্ত শেষে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ভোলা জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যার দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই গভীর রাতে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মেদুয়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হত্যাটি ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবদুল মালেক (৬৮), পিতা মৃত আবদুল মুনাফ। তার বাড়ি পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাঙ্গাসিয়া গ্রামে। পেশায় তিনি একজন কৃষক। নিহত জহুরা খাতুন (৫৭) ছিলেন তার স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আবদুল মালেকের চার ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও সন্তানরা সবাই আলাদা বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে নিহত জহুরা খাতুন জীবিত অবস্থায় স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দায়ের করেন। মামলার কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক চরমভাবে অবনতি ঘটে এবং আসামি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এছাড়া গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করায় সন্তানদের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে গিয়ে তিনি আরও আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েন।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন ১৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। রাতের খাবার শেষে জহুরা খাতুন ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে আবদুল মালেক ঘুমন্ত অবস্থায় তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরে তিনি স্ত্রীর মরদেহ কোলে করে ঘরের সামনের পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে ভোলা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল মামলাটির দায়িত্ব নেয়। দীর্ঘ তদন্ত ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি পুলিশের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

এর ধারাবাহিকতায় আজ ২০ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সাত মাস পর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি