মো.ছিদ্দিকুর রহমান সোহেল ভোলা প্রকাশ ডেস্ক:

ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় সরকারি খাল দখল ও ভরাটের কারণে দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে জলাবদ্ধতা সমস্যা। একসময় প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির ও জোয়ারের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের মাধ্যম ছিল এসব খাল। কিন্তু দখল ও ভরাটের ফলে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারেই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মনপুরা উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের শিকার। জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও মাটি ফেলে ভরাট করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট—দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ বলেন, খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। তাই খালগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে পুনঃখননের বিকল্প নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ (চরফ্যাশন)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, চলমান খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় মনপুরার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি—শুধু পুনঃখনন নয়, খাল দখলমুক্ত রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে মনপুরার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।