• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবগঠিত ভোলা জেলা সিএনজি-হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত ভোলা জেলা পরিষদে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি,আবেদন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে ভোলায় উঠান বৈঠক, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার। খাল পুনঃখনন শেষে ১ কোটি ২ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত, দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চরফ্যাশনের ইউএনও রুমানা আফরোজ ভোলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.শুভ প্রসাদ দাসের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি। হঠাৎ সদর হাসপাতালে এমপি পার্থ,রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে শুনলেন সেবার বাস্তব চিত্র খাল পুনঃখননে সাশ্রয়,সরকারি কোষাগারে ফিরল ২ কোটি ২০ লাখ টাকা।সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী। ‘জ্বিন হাজিরে স্বর্ণ দ্বিগুণ’— প্রতারণার ফাঁদে ১৭ নারী,দুলারহাটে চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার। ৩০ জুলাই একযোগে এসএসসির ফল প্রকাশ। বোরহানউদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ,নারীসহ আ’হত ৫

মনপুরায় নীরব মৃত্যু ফাঁদ: এক বছরে পানিতে ডুবে ৭ শিশুর মৃত্যু, আহত অন্তত ৪৫

NEWS ROOM / ১৬৪ বার ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

মোঃ শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ভোলা প্রকাশঃ

নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নীরবে বাড়ছে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। গত এক বছরে এ উপজেলায় পানিতে ডুবে আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। আর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বাস্তবতা—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই প্রাণ হারিয়েছে ৭টি নিষ্পাপ শিশু। যাদের সবার বয়স মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে মায়ের কোলে ফিরে যাওয়ার গল্প। খেলতে খেলতে কখন যে বাড়ির পাশের পুকুর, খাল কিংবা নদীর পানিতে পড়ে গেছে—তা টেরই পাননি অভিভাবকরা। যখন বুঝেছেন, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সব শেষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে অসুস্থ শিশুদের অনেককেই উদ্ধার করে আনার আগেই তাদের নিঃশ্বাস থেমে যায়। যেসব শিশুকে জীবিত অবস্থায় আনা হয়েছে, তাদের অনেকেই মৃত্যুর মুখ থেকে অল্পের জন্য ফিরে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো উদ্ধার এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে বেশ কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্থানীয়রা জানান, মনপুরার অধিকাংশ বাড়ির আশপাশেই খোলা পানির উৎস—পুকুর, খাল বা নদী—রয়েছে। কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তায় নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত সচেতনতা, নেই কার্যকর নজরদারি। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও অনেক মায়ের কোল শূন্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের একা বাইরে না ছাড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বাড়ির আশপাশের পুকুর ও খাল ঘিরে রাখা, পানির উৎসে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং গ্রামভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

প্রশ্ন থেকেই যায়—আর কত শিশু প্রাণ হারালে আমরা সত্যিকার অর্থে সচেতন হব?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি