• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

ভোলায় যৌতুক ও নেশার টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ।

NEWS ROOM / ১৬১ বার ভিউ
আপডেট : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা প্রকাশ:
ভোলার দৌলতখানে যৌতুকলোভী নেশাখোর স্বামীর টাকার যোগান দিতে না পারায় স্ত্রী’কে মধ্যযুগীয় ভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে আহতর পরিবার খবর পেয়ে গঠনস্থলে গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পরিবার।
ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতনের শিকার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ নজরুল ইসলাম এর মেয়ে সামিয়া(২০)জানান,সম্পর্কের সূত্র ধরে দৌলতখান উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজি বাড়ির ইয়াসিন এর ছেলে সুমনের সাথে বাংলাবাজার এলাকায় তাদের সামাজিকভাবে
বিয়ে হয় ২ বছর ৬ মাস আগে।
বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে সুমনকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল দেয় সামিয়ার পরিবার।
কিন্তু বিয়ের পর সামিয়া জানতে পারেন যে, তার স্বামী একজন নেশাখোর।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী তার নেশা ও তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন সময় ব্যবসা ও চাকরি নামে যৌতুকের জন্য বাবার পরিবার থেকে টাকা এনে দিতে বলে।
সামিয়া বলেন,১ বছর আগে মেয়ের সুখের জন্য তার বাবা নজরুল ইসলাম তার জামাইকে ফের আবারো ১ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দেয়।
কিন্তু সেই টাকা দেওয়ার কিছুদিন পর আবারো দুই লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল দাবি করে তার জামাতা সুমন।
তার বাবা আর টাকা দিতে না পারায় এরপরেই শুরু হয় তার ওপর নির্যাতন।
কিছুদিন আগে টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে বাবার বাড়ি ও পাঠিয়ে দেয় সামিয়াকে কিন্তু গত ১৭ই নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে সামিয়ার স্বামী মোঃ সুমন তাকে দৌলতখানে বাসায় যেতে বলে” বাসায় যাওয়ার পরেই যৌতুকের টাকা নেওয়ার জন্য তার বাবাকে ফোন দিতে বলে। সামিয়া বলেন,আমার বাবা যৌতুকের টাকা কোথায় পাবে হতদরিদ্র মানুষ এর পরই বৃহস্পতিবার রাতে তার উপর অমানসিক নির্যাতন চালায় তার স্বামী সুমন,শাশুরী রহিমা বেগম,ননদ সাথী,পাখি,নূপুর,সুমন এর বোন জামাই অলি।
মুখ ও গলা চেঁপে ধরে পেটে লাথি সহ
মধ্যযুগীয় কায়দায় অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালায়।
নির্যাতন শেষে মুমূর্ষ অবস্থায় সামিয়া কে ঘরের বাহিরে রাখেন তারা। মুঠোফোনে সামিয়া কে উদ্ধারের জন্য তার পরিবারের কাছে খবর পাঠালে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে।
সামিয়ার বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকে তার জামাতা মোঃ সুমন তার মেয়েকে নির্যাতন চালায়” শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে সইতে না পেরে তার মেয়ে পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি জানান,বিয়ের পর থেকে তার জামাতা তার মেয়ের কোন খোঁজ খবর নেননি এমনকি তার চিকিৎসা সহ সকল কিছু তারই নিজেরই নিতে হয়েছে।
তিনি জানান,গত ১ মাস ৪৫ আগে তার মেয়ের গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয় কিন্তু সুমন এক বারের জন্য তাকে দেখতে যায় নি।
এরপরে সন্তান জন্ম নেওয়ার কিছুদিন পর তার মেয়ের খিচুনি রোগ দেখা দিলে সেই চিকিৎসা করাতে হয় বাবা নজরুলকে সেখানে খরচ হয় ৭৪ হাজার টাকা,এতকিছুর পরও তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সাথে যেন সুখে থাকে তার মেয়ে কিন্তু সেই সুখের বদলে তার উপর একের পর এক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে স্বামী সুমন।
এমন কি কয়েক বার মেরে ফেলার ও চেষ্টা করা হয় সামিয়াকে।।সামিয়ার পরিবারের দাবি তাদের মেয়েকে স্বামী রুপি পাসান্ড স্বামীকে বিচারের আওতায় আনা হোক যেন আর কোন মেয়েকে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হতে হয়।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনির হোসেন মিয়া বলেন,অভিযোগ পাইনি তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি