চরফ্যাশন সংবাদ প্রতিনিধি:
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জের কৃতি সন্তান মোঃ জাকির হোসেন।
শৈশবে সংসারের অভাব-অনটন ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তাকে খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি করে। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাবার একটি ছাগল বিক্রি করে তিনি একদিন লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অচেনা শহরে ছিল না কোনো আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিত মুখ। তবুও সাহস, আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহাকে পুঁজি করে শুরু করেন নতুন জীবন সংগ্রাম।
জীবনের সেই কঠিন সময়ে তিনি ভোলা-ঢাকা নৌরুটের লালি লঞ্চে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই সকলের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। তার দায়িত্বশীলতা ও বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে লঞ্চের মালিক নাজিউর রহমান মঞ্জু তাকে কেরানির পদে উন্নীত করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার সফলতার নতুন অধ্যায়।
সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় আর্থিক সংকটের কারণে তিনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা কখনোই তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও সততার শক্তিতে আল্লাহর রহমতে তিনি আজ একজন প্রতিষ্ঠিত ও সফল ব্যবসায়ী।
বর্তমানে মোঃ জাকির হোসেন ২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ২টি জাহাজের মালিক। পাশাপাশি চরফ্যাশন বাজারে তার একটি গার্মেন্টস ব্যবসা ও একটি মুদি দোকান রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীতেও তিনি অনন্য। সমাজের গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন। বিভিন্ন সময়ে নীরবে অসহায় মানুষের সহযোগিতা করে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, মোঃ জাকির হোসেনের জীবনগাঁথা তরুণ সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ। তার সংগ্রাম, সততা ও সফলতার গল্প প্রমাণ করে— দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে দারিদ্র্য কখনোই সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।