ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ১৫ নম্বর অধ্যক্ষ নজরুল নগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় চলছে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন সমাজসেবক এম. আসাদুর রহমান রুবেল (মোল্লা রুবেল)।
স্থানীয় পর্যায়ে জনমত জরিপের দাবি এবং ভোটারদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। তবে জরিপের পদ্ধতি, নমুনা ও ফলাফলের স্বাধীন যাচাই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে জনমত জরিপে শীর্ষে থাকা প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধি না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন মোল্লা রুবেল। সামাজিক ও মানবিক সহায়তা, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে তাঁকে নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
জনপ্রতিনিধি না হয়েও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত
স্থানীয়দের দাবি, করোনাকালীন দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মোল্লা রুবেল। খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও সহযোগিতা করেছেন তিনি।
এ ছাড়া অসুস্থ ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সহায়তা, অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা এবং শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা।
যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে তাঁদের দাবি।
নির্বাচিত হলে আধুনিক ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নজরুল নগর ইউনিয়নকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মোল্লা রুবেল।
তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা পাকা করা, প্রয়োজনীয় ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি কৃষক ও জেলেদের অধিকার রক্ষা এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার অঙ্গীকারও রয়েছে তাঁর পরিকল্পনায়।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
‘শাসক নয়, জনগণের সেবক হতে চাই’
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ও তরুণ ভোটারের ভাষ্য, তাঁরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যাঁকে যেকোনো প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যাবে এবং যিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক থাকবেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মোল্লা রুবেল নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
নিজের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এম. আসাদুর রহমান রুবেল বলেন, “আমি নজরুল নগরের মানুষের শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াই আমার মূল শক্তি। মহান আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দেন এবং জনগণ যদি আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে আমি এই নজরুল নগর ইউনিয়নকে চরফ্যাশন উপজেলার অন্যতম সেরা ও অপরাধমুক্ত মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করতে চাই।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন কার দিকে যায়, তা নির্ধারণ হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও ভোটের ফলাফলে। তবে নজরুল নগর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোল্লা রুবেলের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।