ইসকন মায়াপুরে ‘শঠারি’ প্রথা: ভক্তদের মস্তকে আশীর্বাদের প্রতীক
অঞ্জনা রানী ভোলা প্রকাশঃ
এর প্রধান তীর্থস্থান -এ প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় জমে ভগবানের দর্শন ও আশীর্বাদ লাভের আশায়। এই মন্দিরের একটি বিশেষ ধর্মীয় আচার হলো ভক্তদের মস্তকে ‘শঠারি’ স্পর্শ করানো, যা অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, ‘শঠারি’ একটি পবিত্র উপকরণ, যার উপরের অংশে ভগবানের চরণচিহ্ন বা পাদুকার প্রতীক থাকে। শাস্ত্র অনুযায়ী, ভগবানের বিগ্রহে সরাসরি স্পর্শ করার অধিকার শুধুমাত্র পুরোহিতদের জন্য সীমাবদ্ধ। ফলে সাধারণ ভক্তদের কাছে ভগবানের চরণস্পর্শের অনন্য মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হয় এই ‘শঠারি’।
পূজারীরা যখন ভক্তদের মাথায় শঠারি স্পর্শ করান, তখন তা কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়—এটি ভগবানের চরণের আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই স্পর্শের মাধ্যমে তারা ভগবানের কৃপা, সুরক্ষা ও আশ্রয় লাভ করেন।
বিশেষ করে, ইসকন মন্দিরগুলোতে ব্যবহৃত শঠারিতে -এর চরণচিহ্ন অঙ্কিত থাকে। নৃসিংহদেবকে ভক্তদের রক্ষাকর্তা ও অশুভ শক্তির বিনাশকারী হিসেবে পূজা করা হয়। তাই তাঁর চরণচিহ্ন মাথায় গ্রহণ করা মানে নিজেকে তাঁর সুরক্ষার অধীনে সমর্পণ করা।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘শঠারি’ শব্দটির মধ্যেও রয়েছে গভীর তাৎপর্য। ‘শঠ’ অর্থ কপটতা বা অহংকার এবং ‘অরি’ অর্থ শত্রু বা বিনাশকারী। সেই অর্থে ‘শঠারি’ মানুষের অন্তরের অহংকার, ভণ্ডামি ও মিথ্যা ভাবনার প্রতীকী বিনাশ নির্দেশ করে।
এছাড়া, শঠারিরও নিয়মিত পূজা করা হয়, যা এটিকে একটি সাধারণ উপকরণ থেকে ভগবানের উপস্থিতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, শঠারি গ্রহণের মাধ্যমে ভক্তরা শুধু আশীর্বাদই গ্রহণ করেন না, বরং বিনয়, আত্মসমর্পণ ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার এক গভীর বার্তাও উপলব্ধি করেন।
সমাপ্তি বার্তা:
ভক্তদের জন্য এই আচারটি স্মরণ করিয়ে দেয়—অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী মন নিয়ে ভগবানের আশ্রয় গ্রহণই প্রকৃত ভক্তির মূল।
🕉️ জয় নৃসিংহ দেব ভগবান কি জয় 🙏