রাত ১২টা ৮ মিনিট। ঢাকার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ঢাকা থেকে ভোলার পথে ছুটে চলছে একটি লঞ্চ। চারপাশে গভীর রাতের নীরবতা—আর সেই নীরবতার মধ্যেই যেন ভেসে আসে দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের এক প্রশ্ন—“ভোলাবাসীর এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?”
২৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি লঞ্চ থেকে তোলা ছবিটি যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ভোলার মানুষের যোগাযোগ এখনো অনেকাংশে নৌপথনির্ভর। ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত সময়, অর্থ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় মানুষকে।
লঞ্চ ও ফেরিঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা, বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রা ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং দীর্ঘ নৌযাত্রা—সব মিলিয়ে যোগাযোগের এই সীমাবদ্ধতা ভোলার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে জরুরি রোগী, প্রসূতি মা কিংবা গুরুতর অসুস্থ মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মূল ভূখণ্ডে নিতে হলে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নদীপথের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সেই সময়টুকুই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বড় বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও। একইভাবে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের জন্যও সহজ ও দ্রুত যোগাযোগের অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় প্রতিবন্ধকতা।
প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই দ্বীপ জেলাকে দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করতে হলে টেকসই ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য।
তাই ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখন একটাই—ভোলা-বরিশাল সেতু।
ভোলাবাসীর ভাষায়, শুধু সড়ক নয়; প্রয়োজন এমন একটি সেতু, যা ভোলাকে সরাসরি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে। কমাবে যাতায়াতের সময় ও ব্যয়, বাড়াবে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি, সহজ করবে চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ এবং খুলে দেবে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।
সরকারের কাছে দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা—দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও জনদাবিকে গুরুত্ব দিয়ে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণে দ্রুত ইতিবাচক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভোলাবাসীর দাবি স্পষ্ট—
সড়ক নয়, সেতু চাই।
ভোগান্তি নয়, সহজ যোগাযোগ চাই।
প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই।
— শাহাবুদ্দিন হাওলাদার
গণমাধ্যম কর্মী
ভোলা বরিশাল সেতু চাই ভোলাবাসীর দাবি সড়ক নয় সেতু চাই ভোলার ২২ লাখ মানুষ।