মোঃ মহিউদ্দিন সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ভোলা প্রকাশঃ
বাংলা কাব্যভুবনের নক্ষত্রপুঞ্জে যাঁদের ভিন্ন আলো, ভিন্ন দীপ্তি—প্রভাষক কবি শাহাবউদ্দিন রিপন শান তাঁদেরই একজন। তাঁর বাচনভঙ্গি, তাঁর পরম নিষ্ঠায় গড়া আবৃত্তি, আর শব্দের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে থাকা অনুরণন—সব মিলিয়ে তিনি যেন এক চলমান শিল্পগাথা। তাঁর আবৃত্তির শরীরে সুরের ঢেউ লেগে থাকে, আর সে ঢেউ দর্শকের মনকে স্পর্শ করে অনিবার্য মুগ্ধতায়। কবিতা পড়ার মাঝেই একসময় মনে হয়—উচ্চারণ নয়, যেন হৃদয়ের ভেতর বাজছে নিঃশব্দ সুররাগ।
বাচনভঙ্গির আলাদা সুর—-
রিপন শানের কণ্ঠে কবিতা উচ্চারণ মানে শুধুমাত্র শব্দের রূপায়ণ নয়; এটি এক ধরনের দর্শন, এক ধরনের আত্মসমর্পণ। তাঁর স্বরভঙ্গির ওঠানামায় আছে আশ্চর্য শৈল্পিকতা। কখনো নিস্তব্ধ নদীর জলের মতো শান্ত, কখনো উত্তাল ঢেউয়ের মতো তীব্র—তিনি প্রতিটি কবিতাকে নিজের মতো করে পুনর্জন্ম দেন।
এই কারণেই তাঁর আবৃত্তি শ্রোতাকে কেবল শোনায় না, ছুঁয়ে যায়।
শরীরের ঝংকারে কবিতার নতুন রূপ—
অনেকেই কবিতা পড়েন, কিন্তু কজন নিজস্ব শরীরী ভাষায় কবিতাকে প্রাণ দেন? রিপন শানের ভঙ্গিমা, চোখের ইশারা, হাতের মুদ্রা—সব মিলিয়ে কবিতা যেন মঞ্চে উঠে দাঁড়ায় মানুষের রূপ ধারণ করে। তাঁর উপস্থাপন ভিন্ন, গভীর, আকর্ষণীয় এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব। সেই ভিন্নতা তাঁকে আজকের সময়ের একজন ব্যতিক্রমী আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
কবি বন্ধুদের প্রতি তাঁর নিবেদন—-
সাহিত্যের পথে চলতে গিয়ে তিনি কেবল নিজের জন্য আলো খুঁজেন না; খুঁজে বেড়ান অন্য কবিদের সম্ভাবনা, তাদের সময়, তাদের সৃষ্টিশীলতা। কবি বন্ধুদের তিনি যে উষ্ণতা ও আন্তরিকতা দিয়ে সময় দেন—তা আজকের সাহিত্যাঙ্গনে দুর্লভ এক উদাহরণ।
একেকজন কবির কাছে তিনি যেন অবলম্বন, পরামর্শদাতা, কিংবা প্রেরণার উৎস।
এক ছুটন্ত জাহাজের মতো ভ্রমণ—
রিপন শান যেন এক ছুটন্ত জাহাজ—কখনো ভোলার দ্বীপে, কখনো ঢাকার সাহিত্যগৃহে, কখনো মফস্বলের কোনো জনমানবহীন প্রান্তে।
তিনি ছুটে চলেন; শুধু ভৌগোলিক গতিতে নয়—চেতনার ভিতর দিয়ে, কল্পনার ডানায় ভর করে।
দেশের প্রান্ত থেকে প্রান্তে কবিতার আনন্দ ছড়িয়ে দিতে তিনি নোঙর ফেলেন একেকটি দ্বীপে, একেকটি মনের বন্দরে।
ভাবনার প্রাণপ্রজাপতি—–
তার চিন্তা-ধারণা, কথার অনুষঙ্গ—সবকিছুতেই আছে এক বিশেষ আলোকরেখা। ভাবনার সেই প্রাণপ্রজাপতি সময়ের ডানায় উড়ে বেড়ায়, আর সেই উড়ে চলার সঙ্গী হয়ে আমরাও ছুটে যাই। তাঁর কথার ভেতর থাকে দার্শনিকতার সূক্ষ্ম ছায়া, থাকে হাস্যরসের নরম পরশ, আর থাকে মমতার টান।
মানবিকতার মৃদু আলো—
রিপন শান শুধু কবিতা লিখেন বা আবৃত্তি করেন না; তিনি মানুষকে ভালোবাসেন। গ্রাম-শহরের নানা প্রান্তে তাঁর উপস্থিতি মানে মানুষের মুখে হাসি, প্রিয়জনের মতো অভ্যর্থনা। সমাজ, সংস্কৃতি এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে ভিন্ন উচ্চতায় আসীন করেছে।
কবি বন্ধুর প্রতি শুভকামনা—
সাহিত্যের এই আলোকযাত্রী, প্রভাষক কবি শাহাবউদ্দিন রিপন শান আরও সুস্থ, প্রফুল্ল এবং সৃজনশীল থাকুন। সুন্দর দিন, সুস্বাস্থ্য এবং অবিনশ্বর সৃষ্টিশীলতা তাঁর সঙ্গী হোক।
বাংলার কবিতা, আবৃত্তি আর মননশীল চর্চার মঞ্চে তিনি থাকুন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে—আজ, আগামীকাল এবং বহুদূর ভবিষ্যতে।