স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ভোলা প্রকাশ: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সাবেক পুত্রবধূর হামলায় আবু তাহের (৬০) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কোনো পূর্ব বিরোধ ছাড়াই জুথি নামে ওই নারী তার সাবেক শ্বশুরের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে নাক ফাটিয়ে দেন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পন্ডিত বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় আবু তাহের তাদের বাড়ির নষ্ট হয়ে যাওয়া টিউবওয়েল মেরামতের জন্য একজন মিস্ত্রি এনে কাজ করাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে জুথি সেখানে এসে কোনো কিছু বোঝার আগেই আবু তাহেরের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে তার নাক ফাটিয়ে দেন।
আবু তাহেরের পুত্রবধূ শারমিন আক্তার জানান, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জুথি এসে আমার শ্বশুরের ওপর হামলা চালায়। পরে তার মা কুলসুমও এসে যোগ দেয় এবং দুজনে মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে গালাগাল করে এবং আমার দিকেও তেড়ে আসে।”
তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় আবু তাহেরকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে আবু তাহেরের ছেলে ফরহাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২০ বছর সংসার করার পর এক বছর আগে তার স্ত্রী জুথি তাকে ডিভোর্স দেন। এরপরও তিনি জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে বসবাস করছেন। ফরহাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর জুথি তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ২৩ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ফরহাদ আরও দাবি করেন, “বর্তমানে সে আমাদের বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। আমি কিছু বলতে পারছি না। এর আগেও আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় তাকে মারধর করা হয়েছিল।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুথির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।