নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আম গাছে উঠতে হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহেরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি আম গাছের ডালে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্কের সন্ধানে অনলাইনে হাজিরা পাঠাচ্ছেন।
জানা গেছে, দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩ থেকে ৪শ ফুট নিচে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সকাল ৯টার মধ্যে হাজিরার ছবি পাঠাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই শিক্ষক। স্কুলের ছাদেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে তিনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে শেষ পর্যন্ত একটি আম গাছে উঠে কোনোমতে নেটওয়ার্ক পান এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা পাঠান।
পঞ্চাশোর্ধ্ব এই শিক্ষক বলেন, “পেটের দায়ে চাকরি করি। চাকরি বাঁচাতে রিস্ক নিতেই হবে। চাকরি না থাকলে আমার পরিবারের চারটি পেট কীভাবে চলবে?”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, প্রথম দিনে উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৮টির অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে বাকি বিদ্যালয়গুলো বিকল্পভাবে মোবাইল বার্তার মাধ্যমে তথ্য পাঠিয়েছে।
এদিকে জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সরকারের অনলাইন হাজিরার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা ভিন্ন। রাঙামাটির অনেক এলাকায় এখনও মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছেনি। তাই পাহাড়ি এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
নেটওয়ার্কের অভাবে গাছে উঠে হাজিরা দেওয়া শিক্ষকের ছবি এখন পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।