ভোলায় জমি-জমা বিরোধের জেরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন
ভোলা প্রকাশ ডেস্ক॥
ভোলা সদর উপজেলায় জমিজমা বিরোধের জেরে মো. আবদুল মালেক ওরফে মানিক (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বজলুর রহমান ও ভাতিজা মো. আরিফকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আবদুল মালেক উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রতনপুর গ্রামের ওহাব আলী হাওলাদারের ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আবদুল মালেকের বসত ঘরে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, তার স্বামী আবদুল মালেকের ছয় ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই জীবিত আছেন। এদের মধ্যে আবদুল মালেক ও মফিজুল ইসলাম এক পক্ষ এবং তাজল ইসলাম ও বজলুর রহমান আরেক পক্ষ। এ দুই পক্ষের মধ্যে বড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবদুল মালেক বাড়ির দরজায় নিজের মুদি দোকানে গেলে মো. তাজল ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ তাকে অকত্থ ভাষায় গালামন্দ করেন। এক পর্যায়ে দুই জনের ঝগড়া হয়। এ সময় সোহাগ তাকে মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমিক দেয়। পরে সে ঘরে চলে এসে স্ত্রী পারুল বেগমকে ঘটনা জানায়। এর কিছুক্ষণ পর সোহাগের বাবা তাজল ইসলাম, ভাই অলিউল্লাহ, জাফর ও রুবেল এবং মা মমতাজ বেগমসহ ৭-৮ জন মিলে তাদের ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামীকে এলোপাথারি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এ সময় সোহাগ আবদুল মালেকের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরলে তার শ^াস বন্ধ হয়ে ছটপট করতে থাকে। পরে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এর পর আরো লোকজন এসে আদুল মালেককে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনা শুনে আবদুল মালেকের ভাই মফিজুল ইসলাম তাকে হাসপাতালে দেখে বাড়িতে গেলে অপর ভাই বজলুর রহমান ও ছেলে মো. আরিফ তাকে মারধর করে মাথা রক্তাক্ত করেন। পরে তাকেও গুরুতর অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মিঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে জানান, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে নিহতের ভাই মো. বজলুর রহমান ও তার ছেলে আরিফকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি ও ঘটনার সাথে জড়িত বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে।