• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভোলায় কোস্টগার্ডের পৃথক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ১১ লাখ টাকার নি.ষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও পলিথিন জব্দ। ভোলায় ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা ‘নাসরিন ট্র্যাজেডি’র ২৩ বছর আজ টানা বর্ষণে পানিবন্দি মনপুরা:তলিয়েছে সড়ক-ফসলের মাঠ,চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ স্লুইসগেট অকেজো ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভিযোগ;কর্মহীন শ্রমজীবীরা। বৈরী আবহাওয়ায় ভোলার ৫ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা,ভিডিও ভাইরাল:পুলিশের হাতে আটক ৪ সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে জনদুর্ভোগ কমাল বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ভোলায় বসছে শ্রমিক কেনাবেচার হাট, দিনমজুরের মজুরি ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। ভোলায় নারী-পুরুষকে জু.তার মালা পরিয়ে অপ.দস্তের অভিযোগ,তদন্তে পুলিশ আবহাওয়ার বৈরীভাব এখনও কাটেনি নিম্নচাপের প্রভাবে আজও উত্তাল ভোলার নদ-নদী। প্রিয় বন্ধুদের ভালোবাসায় অমলিন বিনয় ভুষণ হাওলাদার: ১০ জুলাই ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

টানা বর্ষণে পানিবন্দি মনপুরা:তলিয়েছে সড়ক-ফসলের মাঠ,চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ স্লুইসগেট অকেজো ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভিযোগ;কর্মহীন শ্রমজীবীরা।

NEWS ROOM / ১৯ বার ভিউ
আপডেট : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: মো. শাকিল খান রাজু

টানা চার দিনের মুষলধারে বর্ষণে ভোলার মনপুরা উপজেলার অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক, ফসলের মাঠ ও নিম্নাঞ্চল হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে না পারায় দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবার খাদ্যসংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হলেও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবারের ঘর ও উঠানে পানি ঢুকে পড়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় কাজেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এদিকে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।

হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিজল, হেলাল ও ইউসুফ; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রাকিব; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের সজীব ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের নাহিদ ও মোস্তফা জানান, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া অনেক খাল ভরাট ও অখনন অবস্থায় থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে পানি লোকালয়ে আটকে থেকে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানান।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, টানা বর্ষণের কারণে মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্লুইসগেট মেরামতসহ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি