মোঃ রিপন শান স্টাফ রিপোর্টার ভোলা প্রকাশঃ
বীরমুক্তিযোদ্ধা গুণীব্যক্তিত্ব জিয়াউল হাসান কিসলু দর্শকদের কাছে একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হলেও মূলত পেশায় তিনি ছিলেন শিক্ষক।
তিনি ‘নায়েম’ এর সাবেক পরিচালক এবং দর্শক শ্রোতা পাঠক ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সভাপতি।
রক্তাক্ত একাত্তরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি বিহারে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে বরিশালের গৌর নদীতে নিজ এলাকায় নয় নম্বর সেক্টরের হয়ে সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পর কিশোর সেই কিসলুর চোখে মুখে ছিল যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার এক পরম সুখ। সেই কিসলুই পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮২ সালে ঢাকায় এসে ‘নিপুণ’ পত্রিকায় এক বছর সাংবাদিকতা করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি ‘এশিয়াটিক’ এ চাকরি করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে বিসিএস দিয়ে দর্শনা সরকারি কলেজে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতায় দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথচলা শেষে সরকারি তোলারাম কলেজের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা শেষে অবসর নেন গুণী এই অভিনেতা। এখন অভিনয়েই বেশি ব্যস্ত তিনি। যেহেতু দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন সেই অভ্যাসটাকে ধরে রাখার জন্য মাঝে মাঝে রামেন্দু মজুমদারের ‘থিয়েটার’ এ ক্লাস নিয়ে থাকেন। কিসলুর সম্পাদনায় ইতোমধ্যে অভিনেতা আবুল হায়াতকে নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘সার্থক জনম হে তোমার শিল্পী সুনিপুণ’। জিয়াউল হাসান কিসলু পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংশোধন ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্তিকরণ কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করেছেন ২০১০ সালে।
তিনি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির পরিচালক ছিলেন যা শিক্ষকতা জীবনে তাঁর সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।
১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে কলেজে পড়ার সময় কিসলু চট্টগ্রামের প্রথম গ্রুপ থিয়েটার ‘থিয়েটার ৭৩’ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেখানে তাঁর গুরু ছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন আহমেদ। ১৯৭৮ সালের তাঁরই নির্দেশনায় জিয়া হায়দার রচিত ‘এলে বেলে’ মঞ্চ নাটকটি শিল্পকলা একাডেমির বাংলাদেশ নাট্যোৎসবে বিশেষভাবে পুরস্কৃত হয়। টেলিভিশনে কিসলু অভিনীত প্রথম নাটক ছিল মমতাজ উদ্দীন আহমেদের ‘ফলাফল নিম্নচাপ’।
১৯৮২ সালে ঢাকায় আসার পর নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে তিনি মঞ্চে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘অচলায়তন’, ‘নূরুলদীনের সারা জীবন’ নাটকে অভিনয় করেছেন।তাঁর অভিনীত একমাত্র সিনেমা তৌকীর আহমেদের ‘অজ্ঞাতনামা’। আজ ১৭ নভেম্বর২০২৫ বহুমাত্রিক জিয়াউল হাসান কিসসুর জন্মদিন। পিতার নাম খলিফা আবদুল হাই ও মাতার নাম কানিজ হাবিবা বেগম। তাঁর স্ত্রীর নাম রাফেজা শাহীন। সৌমিক ও ঐশিক নামে দুই পুত্র সন্তান আছে এই দম্পতির। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে চট্টগ্রামে তিনি ভূষিত হয়েছেন নাট্যকার চৌধুরী জহুরুল হক সম্মাননা২০২৪ এ। এছাড়াও তিনি ভূষিত হয়েছেন নাট্যক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় কলকাতার ‘নিখিল বঙ্গ বাচিক শিল্পীগোষ্ঠী’ ও ‘কালার টিভি’ কর্তৃক ‘শম্ভু মিত্র স্মৃতি সম্মাননা ২০২০ এ। জয়তু বীরমুক্তিযোদ্ধা। জয়তু শিল্পের বীর।