নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা:
ভোলার চরফ্যাশনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাশন উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির রাজনের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগ করেছেন পুষ্প নামে ১ নারীর সাবেক স্বামী আমান।
অভিযোগ করে রাজনের (স্ত্রীর) সাবেক স্বামী মোহাম্মদ আমান সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন,ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতবা ইউনিয়নের আবদুল খালেকের মেয়ে পুষ্পের সাথে আমার ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার,সেই ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন,রাজন তার ফুফাতো বোনের জামাই। ২০২৩ সালে রাজনের সঙ্গে পরিচয় হয় পুষ্পের । সম্পর্কের জেরে প্রায়শ তাদের বাড়িতে যেত এ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। কথা হতো মেসেঞ্জারে। একটা সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পরকীয়া প্রেমে জড়ান তারা।
তিনি আরও জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে গোপনে তার স্ত্রী পুষ্পকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন রাজন। সেখানে নিয়ে বিয়ের আশ্বাসও দেন। সেই মোতাবেক চট্টগ্রামের বাইজিদ থানার পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। কিছুদিন থাকার পর তাকে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেন রাজন। রাজনের পরামর্শে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বামীকে তালাক দেন পুষ্প। গত বছরের জুলাই মাসে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের কিছুদিন পরই গর্ভবতী হন পুষ্প।
আমান আরো বলেন,২০২৪ সালের (১৩অক্টোবর ) বোরহানউদ্দিন উপজেলার উত্তর বাসষ্টান্ডে পুস্প-রাজনের ভাড়া বাসায় দুজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতেনাতে আটক করে তিনি । পরে স্থানীয়রা তাদের ওই বাসা থেকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জিম্মায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে রাজন তার সামাজিক অবস্থান ও আগের স্ত্রী, সন্তানের কথা তাদেরকে জানিয়ে রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে তাদের সহায়তায় মোটরসাইকেল যোগে ভোলার বাংলাবাজারে চলে যায়। বাংলাবাজার থেকে তার এক ঘনিষ্ঠবন্ধু তাকে রিসিভ করে জেলা শহরে নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার উত্তর বাসষ্টান্ডে অবস্থিত সরোয়ার কমপ্লেক্স ভবনের মালিকের পুত্র। তিনি গনমাধ্যকে বলেন, ওইদিন রাজন ও পুস্পকে তার আগের স্বামী এখানে এসে আটক করলে আমাদের ভবনে অনেক হট্রগোল হয়। এরপর আমরা তাদেরকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিলে তারা আমাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।
ফ্লাটটির ভাড়াটিয়া পুস্পর চাচাতো বোন রুমা জানায়, আমার চাচাতো বোন আমাকে ফোন করে বলে আপু তোমরা ৩ রুমের একটি বাসা নেও। আমাকে ও রাজন কে ১ রুম সাবলেট দিও পরে আমি ওর কথামতো সরোয়ার কমপ্লেক্সের ৩ রুমের এই বাসাটি ভাড়া নেই। পুস্প চিটাগাং থেকে আসতো আর রাজন চরফ্যাশন থেকে এসে থাকতো। ওরা ৩মাস আমার বাসায় সাবলেট হিসেবে ছিলো। আমান এসে যেদিন ঝামেলা করে এরপর বাড়িওয়ালা আমাদের বাড়ি ছাড়তে নোটিশ দেয় এরপর আমার স্বামীর পরামর্শে আমি ফ্লাটটি ছেড়ে দেই। এখন বর্তমানে স্বামীর সাথে ঢাকায় আছি।
পুস্পর প্রথম স্বামী আমান আরো জানান, আমার স্ত্রী রাজনের সাথে সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকেই রাজনের প্রলোভনে পরে আমাকে ডিভোর্স দেয়। আমি ডিভোর্স পেপারে সই করিনি। রাজনের সাথে আমার স্ত্রীর সম্পর্ক আমি লোকমুখে শুনলেও বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। তাদের হাতেনাতে আটক করতে আমি বিভিন্ন লোক আমার স্ত্রীর পিছনে লাগিয়ে রাখি পরে আমি জানতে পারি রাজন ও পুস্প বোরহানউদ্দিনের উত্তর বাসষ্টান্ডের একটি ফ্লাটে আছে পরে আমি স্থানীয়দের সহায়তায় ১২ অক্টোবর দুপুর ৩:৩০মিনিটে ওই বাসায় প্রবেশ করে দেখি পুস্পর চাচাতো বোন রুমা আপাকে। রুমা আপাকে পুস্পর কথা জিজ্ঞেস করলে উনি বলে যে পুস্প বাসায় নেই পরে আমি ওর জুতা দেখে সনাক্ত করে বলি পুস্প বাসায় আছে। পরে আমি সহ স্থানীয়রা ওই বাসার একটি রুমে রাজন সহ পুস্প কে পাই। সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা রাজন ও পুস্প কে ওই বাসা থেকে বেড় করে স্থানীয় এক নেতার জিম্মায় নিয়ে যায়। এরপর রাজন সেখান থেকে সটকে পড়ে। পড়ে স্থানীয়রা পুস্প ও আমাকে নিয়ে বসে আমাদের কে ভাবার জন্য ৩মাসের সময় দেয়। চলতি বছরের ১০ফেব্রুয়ারী বিভিন্ন গনমাধ্যমে দেখতে পাই আমার সাবেক স্ত্রী রাজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে। কিন্তুু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে হুমায়ূন কবির রাজন আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গনমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসছে আমি নাকি তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছি এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সে আমার সরলতার সুযোগে আমার সংসারটা ভেঙ্গে দিয়ে এখন বিভিন্ন রকমের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
এই ঘটনার প্রতক্ষদর্শী বোরহানউদ্দিন পৌর শ্রমিকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নান্নু পাটোয়ারী এ বিষয়ে বলেন, পুস্প রাজনের এই বিষয়টি নিয়ে পুস্পর প্রথম স্বামী আমান উত্তর বাসষ্টান্ডে একটি ভাড়া বাসায় তাদের আটক করে। পরে উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা আমাকে বিষয়টি অবগত করলে আমি তাদের উদ্ধার করে অন্যত্র রেখে আসি। সেখান থেকে রাজন সটকে পড়ে। পরবর্তীতে আমরা আমান ও পুস্পকে নিয়ে বসে তাদের দুটো সন্তানের কথা বিবেচনা করে সংসার করা যায় কিনা তা ভাবতে ৩মাসের সময় দেই। পরে এ বিষয়ে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।
উল্লেখ্য যে কয়েকদিন পূর্বে,স্ত্রী স্বীকৃতি চেয়ে রাজনের বাড়িতে অনশন করেছে তার স্ত্রীর দাবিদার পুষ্প।
এবিষয়ে অভিযুক্ত রাজনের সাথে কথা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন,আমি পুষ্পকে বিয়ে করিনি তার সাথে আমার সংসার হয়নি,অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান তিনি।