• বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মেহেন্দিগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে হুইল চেয়ার ও চেক বিতরণ। এক নজরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্পিকার মেজর – অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ১১৭ ভোলা -৩। চরফ্যাশনে ফ্যামিলি কার্ড পেলো ২৮৮টি পরিবার স্বাস্থ্য সেক্টর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আহবান প্রতিমন্ত্রীর বোরহানউদ্দিনে ভূমিদস্যদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন বোরহানউদ্দিনে তেতুলিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন করায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিল ড্রেজার। ছাড়া পেয়েই ফের বালু উত্তোলন শুরু বোরহানউদ্দিনে প্রতিবেশীকে ফাসাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি মেহেন্দিগঞ্জে সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী,জননন্দিত নেতা রাজিব আহসান এমপি। ভোলায় ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী হিন্দু নারীর পরিবারের পাশে ঢাকার সংগঠনগুলোর সহায়তা বৈকুণ্ঠ বাসী হন শ্রদ্ধেয় কাকা ভোলার ব্যবসায়ী সমাজের পরিচিত মুখ ও রেনুকা বস্ত্রালয়-এর স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার সাহা আজ বিকেল ৪টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পরলোকগমন করেছেন। সবাই ওনার পরিবারের জন্য আশীর্বাদ ও দোয়া করবেন।

লালমোহনের এক জমি প্রতারকের নাম সিরাজ মোল্লা দলিল দিয়ে জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, ক্রেতাকে বুজিয়ে দেওয়া হচ্ছে না জমি

NEWS ROOM / ১০৬ বার ভিউ
আপডেট : শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
ভোলার লালমোহনের এক মুর্তিমান জমি প্রতারকের নাম সিরাজ মোল্লা। তার প্রতারনার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে অসহায় কয়েকটি পরিবার। জমি বিক্রি করে ক্রেতাকে জমি বুজিয়ে না দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে। একাধিকবার শালিস মিমাংসা চেষ্টা করা হলেও সিরাজ মোল্লা কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে প্রতারনার শিকার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সিরাজ মোল্লার ভয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। রেজিষ্ট্রী দলিলের মধ্যে নগদ টাকা দিয়ে জমি কিনে প্রতারনার শিকার হয়ে জমি বুজে পেতে বিভিন্ন লোকের কাছে ধর্ণা ধরছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সিরাজ মোল্লার এই প্রতারনার ফাঁদে পড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসিসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।


সরজমিনে দিয়ে দেখা যায়, লালমোহন উপজেলার দক্ষিণ লালমোহনের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ইয়াছিন মোল্লার ছেলে মোঃ সিরাজ মোল্লা জমি প্রতারনার এক মুর্তিমান আতঙ্কের নাম। সিরাজ মোল্লার কাছ থেকে ২০২১ সালে ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দলিল মূল্যে ২৪ শতাংশ ও ২০২২ সালে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা দলিল ১৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রীয় দলিল মূলে ক্রয় করেন স্থানীয় মোঃ খোকন মিয়া। সিরাজ মোল্লার কাছ থেকে মোট ৪০ শতাংশ জমি কেনার পর খোকন মিয়াকে ৮ শতাংশ জমি বুজিয়ে দেওয়া হয়। খোকন মিয়া তার বাকী ৩২ শতাংশ জমি বিক্রেতা সিরাজ মোল্লার কাছে বুজিয়ে পেতে চাইলে সিরাজ মোল্লা দেই দিচ্ছি করে ঘুরাতে থাকে। জমি কিনে হয়রানীর শিকার খোকন মিয়া এক পর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানায়। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকার শালিস বৈঠকে বসলে সিরাজ মোল্লাকে শালিসদারগণ খোকন মিয়ার জমি বুজিয়ে দেওয়ার জন্য রায় দেয়। কিন্তু শালিসদারদের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ক্রেতা খোকন মিয়াকে জমি বুজিয়ে না দিয়ে উল্টো হয়রানী করছেন সিরাজ মোল্লা। শালিস বিচারে কোনো সুরাহা না পেয়ে সিরাজ মোল্লার প্রতারনা শিকার ক্রেতা খোকন মিয়া অসহায় হয়ে পড়েন। ক্রেতা খোকন মিয়া তার ক্রয়কৃত জমি বুজে পেতে সিরাজ মোল্লার কাছে গেলে ভুক্তভোগী খোকন মিয়াকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় সিরাজ ও তার বাহিনীর লোকজন। প্রতারকা সিরাজ মোল্লার হুমকির ভয়ে বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছেন প্রতারনা শিকার ক্রেতা খোকন মিয়া ও তার পরিবার।
স্থানীয়রা বলেন, সিরাজ মোল্লা মানুষের কাছে জমি বিক্রি করে প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মানুষকে দলিল দিলেও জমি বুজিয়ে না দিয়ে প্রতারনা করছে সিরাজ মোল্লা। তার প্রতারনা শিকার হয়েছেন একাধিক পরিবার। ওইসব পরিবার জমি চাইতে গেলে সিরাজ মোল্লা ও তার লোকজন ক্রেতাদেরকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। সিরাজ মোল্লা এলাকায় একজন প্রতারক নামে পরিচিত। সে মানুষের সাথে প্রতারনা করে অনেক টাকার মালিক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে সে মিথ্যা মামলা ও তার লোকজন দিয়ে হয়রানী করে আসছে। সিরাজ মোল্লার এই প্রতারনার ফাঁদে পড়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। জমি প্রতারক সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকার আরও মানুষ প্রতারনার শিকার হবেন। তাই প্রশাসনের কাছে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান স্থানীয় লোকজন।
প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগী মোঃ খোকন মিয়া বলেন, স্থানীয় সিরাজ মোল্লার কাছ থেকে ২০২১ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০২২ সালে ১৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রী দলিল মূলে ক্রয় করি। জমি ক্রয়ের পর সিরাজ মোল্লা আমাকে মাত্র ৮ শতাংশ জমি বুজিয়ে দেয়। বাকি জমি বুজিয়ে না দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকে। পরে আমি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি জানালে শালিস মিমাংসা বসে আমাকে বাকী ৩২ শতাংশ জমি সিরাজ মোল্লাকে বুজিয়ে দিতে বলে। কিন্তু সিরাজ মোল্লা আমাকে জমি বুজিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাকে হয়রানী ও ভয়ভীতি দেখায়। বর্তমানে সিরাজ মোল্লার ভয়ে আমি ও আমার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমি এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য লালমোহন থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমি যাতে আমার ক্রয়কৃত জমি বুজে পেতে পারি সে জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ওসি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সিরাজ মোল্লা বলেন, খোকন মিয়া আমার কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছে ঠিক। আমি তাকে ৮ শতাংশ জমি বুজিয়ে দিয়েছি। আমার ওয়ারিশদের সাথে জমি জমা নিয়ে কিছু জামেলা চলছে। ওয়ারিশদের সাথে জামেলা সমাধান হলে খোকন মিয়ার বাকী জমি বুজিয়ে দিবো।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মোঃ মাহবুবু বলেন, ভুক্তভোগী মোঃ খোকন মিয়া আমাদের কাছে সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি