• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎ভোলার পোলা বলে সেতুর দাবিতে তৌসিফের সরবতা বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ শুরু ভোলা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের নির্দেশে আগামীকাল থেকে ভোলা সদরের চরফ্যাশন বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন সিএনজির টোল আদায় বন্ধ থাকবে। বোরহানউদ্দিনে জমি বিরোধে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা: নারীসহ আহত ৩ ভোলা জেলার তাবলীগ জামাত মাওলানা ইলিয়াস,বরিশাল সাকুরা বাসে অগ্নি দগ্ধ হয়ে হসপিটালে চিকিৎসা অবস্থায় আছেন, সকলের কাছে দোয়ার আবেদন চেয়েছেন তাঁর পরিবার। ভোলা শহরে মুরগি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট!! ভোলার পৌর কিচেন মার্কেটে উল্লেখিত ধার্য করা খাজনা থাকাকালীন নতুন করে মুরগির পিচ প্রতি ১০ টাকা অতিরিক্ত খাজনা দাবি করায় বিক্রয় বন্ধ রেখেছে মুরগি ব্যবসায়ীরা। ভোলায় মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ সোহান খুঁজে পেতে পোস্টটি শেয়ার করুন শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ শৈশবের অকৃত্রিম বাঙালিয়ানার দিনগুলি বোরহানউদ্দিনে বৈশাখী আনন্দে বর্ষবরণ, শোভাযাত্রায় মুখর উপজেলা চত্বর মা দ ক ও সাইবার অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে লালমোহনে পুলিশ-জনতা সুধী সমাবেশ

সনাতন ধর্মের এতো বিশাল জগতে যদি “ডিফিকাল্ট টু এক্সপ্লেইন” কোনো চরিত্র থাকে তবে তিনি হলেন শিব। তাঁকে বোঝা দায়।

NEWS ROOM / ৮১ বার ভিউ
আপডেট : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিজয় বাইন ভোলা,ভোলা প্রকাশঃ

সনাতন ধর্মের এতো বিশাল জগতে যদি “ডিফিকাল্ট টু এক্সপ্লেইন” কোনো চরিত্র থাকে তবে তিনি হলেন শিব। তাঁকে বোঝা দায়।

কখনো তিনি গায়ে ছাই মেখে গলায় সাপ ঝুলিয়ে শ্মশানে ঘোরা সন্ন্যাসী, আবার কখনো স্ত্রীকে সাদরে পাশে রেখে গণেশ কোলে নেয়া আদর্শ গেরস্থ।

কখনো আগম নিগম তন্ত্র নিয়ে পার্বতীর সাথে জটিল সব ডিসকাশন করা ম্যাচিউর লোক, কখনো আবার স্ত্রীর সাথেই গোস্যা করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়া শিশু।

কখনো তিনি ছোট্ট শিশু মার্কন্ডেয়র আধো আধো ডাকাডাকিতে সন্তুষ্ট হয়ে যমকে ভাগিয়ে দেন, আবার কখনো মহাবীর অর্জুনের এত ত্যাগতিতিক্ষার পরও তাঁকে দেখা দিতে শত ছলনার আশ্রয় নেন।

এই চরিত্রকে এক্সপ্লেইন করা যায়না।
গঙ্গা ভেবেছিলেন “বুঝে ফেলেছি!” বুড়োর দম আর কতটুকু? আমাকে ধারণ করা এতো সোজা? এখনি ভাসিয়ে নিয়ে যাব!

স্বর্গ থেকে যখন ভগীরথের ডাকে মর্ত্যে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, তখনি বুঝলেন ভুল হয়ে গেছে! জটার ভিতর চুলের জঙ্গলে গঙ্গা ঘুরতে লাগলেন মেলায় পথহারানো খুকির মতো! অহংকারী গঙ্গা মা আর বের হওয়ার পথ পাননা! শেষমেশ ঐ হাসিমুখ বুড়োর কৃপাতেই কোনোমতে বের হওয়ার রাস্তা পেলেন। অহংকার ভাঙলো।

এভাবে যিনি অজ্ঞানীর অহংকার দূর করেন, সেই তিনিই আবার চরম নিরহংকারী। এতটাই যে স্বয়ং স্ত্রীর পায়ের নীচে শুয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করেননা!

রক্তবীজের রক্ত খেয়ে শুম্ভ নিশুম্ভকে ঝাড়েবংশে নির্বংশ করে মা কালিকা যখন দারুণ ক্রোধে ফুঁসছিলেন, তখন তাঁকে শান্ত করেছিলেন মহাদেব। তাঁর পায়ের নীচে নিজের বুক পেতে দিয়ে।

প্রকৃতি বিনা শিব যেনো শব। পুরুষ ও প্রকৃতির এই অপূর্ব মিশেল আপনি আর কোথায় পাবেন?

ঠিক এই শান্তশিষ্ট শিবই আবার ক্ষণে ক্ষণে রূপ পাল্টে হয়ে যান ক্রুদ্ধ রুদ্র। সতীর দেহ নিয়ে করতে থাকেন উন্মাতাল তান্ডব। দক্ষযজ্ঞ বিনাশ করে দক্ষের গলা কেটেও তাঁর ক্রোধ শান্ত হয়না। বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে নাচতে থাকেন পাগলের মতো, কোলে সদ্যমৃত স্ত্রীর দেহ, আর চারপাশে প্রলয়।

কাজী নজরুলের ভাষায় –
“হে শিব, সতীহারা হয়ে নিষ্প্রাণ
ভূ-ভারত হইয়াছে শবের শ্মশান”

তাঁর ক্রোধে পুড়ে যান কামদেব, তাঁর পিনাকে ধ্বংস হয় ত্রিপুরা, তাঁর ত্রিশূলে বিদ্ধ হয় জলন্ধর!

আবার জগত বিনাশী এই মহাশিব যেনো ভক্তের এক ডাকেই চলে আসেন হাসিমুখে। কোনো অভিযোগ নেই, কোনো বিরক্তি নেই।

সমুদ্র মন্থনে হলাহল বিষে যখন সবার মরমর অবস্থা। তখন মহাদেব এলেন, বিষ পান করলেন, এবং প্রস্থান করলেন।

He Entered like a boss, He saved all like a boss, He walked off like a boss.

ভোলানাথ। অল্পেই সন্তুষ্ট। একটা বেলপাতা মোর দ্যান এনাফ।

তাই তো সীতামায়ের মাটি দিয়ে বানানো এবড়োখেবড়ো শিবলিঙ্গতেই তিনি বিরাজমান। হিমালয় থেকে দামী বিশাল শিবলিঙ্গ এনেও হনুমান সেই মাটির শিবকে সরাতে পারেননি।

মহাবলী হনুমান। একাই লঙ্কা ছারখার করেছেন। এক লাফে পক প্রণালী পাড়ি দিয়েছেন। অথচ মহাদেবের কাছে শিশু। মহাদেব যখন বলেছেন আমি এখানে থাকবো, তার মানে তিনি ওখানেই থাকবেন। কারো সাধ্য নেই তাঁকে তোলার।

ভোলানাথ ভক্তের ভালোমন্দ দেখেননা। এখানেও তিনি ব্যতিক্রম। কে ডাকলো কেনো ডাকলো, doesn’t matter. ডাকলেই হলো।

রাক্ষসরাজা রাবণের ডাকে তিনি চলে আসেন। বর দিয়ে প্রায় অমরত্ব পাইয়ে দেন।

মহাবীর অর্জুনের ডাকে তিনি চলে আসেন। জগতবিধ্বংসী পাশুপত তুলে দেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই।

ছোট্ট গোপবালকের ডাকে তিনি চলে আসেন। বিরাজ করেন উজ্জয়ীনিতে মহাকাল হয়ে।

এমনকি গভীর রাতে ঘুমন্ত পান্ডবদের হত্যা করতে যাওয়া অশ্বত্থামার ডাকেও তিনি চলে এসেছেন। পাপীর হাতে তুলে দিয়েছেন মানুষ মারার খড়গ।

তিনি চরম ভয়াল। মরা মানুষের ছাই মাখা, গলায় কালনাগ, গায়ে বাঘছাল, শ্মশানে শ্মশানে লাশ ঘাঁটা তাঁর প্রিয়।

অথচ তিনিই চরম সুন্দর। সত্যম শিবম সুন্দরম। শিব সুন্দর, শিব সত্য। তাঁকে ভেবে নজরুলও গেয়ে উঠেন –

“কে শিব সুন্দর শরৎ-চাঁদ চূড়
দাঁড়ালে আসিয়া এ অঙ্গনে,
পীড়িত নরনারী আসিলো গেহ ছাড়ি
ভরিলো নভোতল-ক্রন্দনে…”

এজন্যই মহাদেব কারো কাছে হিরো, কারো কাছে ভিলেন। তিনি ব্যাখাতীত। ব্যাখারাও তাঁর কাছে এসে হেরে বসে থাকে।

মহাদেব আদর্শ পুরুষ। তাঁর কাছে নর-নারী ভেদাভেদ নেই। তাঁর দৃষ্টিতে জগতে সবার সমান অধিকার। পুরুষ ও প্রকৃতি একই।

তাই তো তিনি বিরাজ হন অর্ধনারীশ্বর রূপে। তাঁর অর্ধেক হন পুরুষ, অর্ধেক নারী। বিশ্বে আর কোথাও এমন উদাহরণ আছে?

নারীরা শিবের মতো বর চান। অনেকে হাসেন। শিব? সে আবার কেমন বর?

জ্বি, হ্যাঁ। শিবই আসল বর। সত্যিকারের আদর্শ পুরুষ দেবাদিদেব মহাদেব।

স্ত্রীর চরম তপস্যায় তিনি আরাধ্য।
স্ত্রীর পায়ের তলেই তিনি হাসিমুখে শায়িত।

স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি পাগলপ্রায়, স্ত্রীর প্রতিশোধে তিনি দক্ষযজ্ঞ ধ্বংসকারী।
<span;>স্ত্রী বিয়োগে তিনি সংসারত্যাগী, স্ত্রী সনে তিনি নৃত্যধারী।

তিনি স্ত্রীকে জ্ঞান দেন। ব্যাখা করেন শিবপুরাণ, ব্যাখা করেন শৈবমতে তন্ত্র।
তিনি স্ত্রী থেকে জ্ঞান নেন। মনোযোগ দিয়ে শুনেন পার্বতীর বলা শাক্ততত্ত্ব, তন্ত্রের ব্যাখা।

কখনো তিনি স্ত্রীকে কোলে নিয়ে চিত্রকেতুর সমালোচনা হাসিমুখে সহ্য করেন। কখনো আবার স্ত্রীর কোলেই শিশুরূপে সওয়ার হয়ে জগতমাতার আশ্রিত হন।

তিনি দুর্গারূপী স্ত্রীকে দান করেন মহিষাসুর বধের ত্রিশুল। আবার তিনি অন্নপূর্ণারূপী স্ত্রীর কাছ থেকে ভিক্ষা নেন মুঠো মুঠো চাল।

“পার্বতী পতি হর হর মহাদেব” বলে, স্ত্রীর নাম দিয়ে যাঁর শুরু, তাঁর কাছ থেকে পার্বতীকে আলাদা করাই বা কিভাবে সম্ভব?

তাই নারীরা শিবের মতো বর চাইবে না তো কার মতো চাইবে? জল দুধ মধু তো দূর, অশ্রুর বন্যা বইয়ে দিলেও এমন একজনকে পাওয়া মুশকিল! সাত জনমের ভাগ্য বটে!

তাই বলি শিবকে এক্সপ্লেইন করতে যাবেননা। বৃথা পরিশ্রম। যোগী গৃহী, রাগী ভোলা, জ্ঞানী পাগলা, বৃদ্ধ শিশু সব এই একজায়গাতেই এসে মিলে গেছে, মিশে গেছে।

অর্ধনারীশ্বর রূপে নারী পুরুষ সমানভাবে পূজিত হোক জগতের সর্বত্র, হর পার্বতীর মতোই সম্মান আর ভালোবাসা হোক সমান সমান – এটাই প্রত্যাশা।

স্পেশালি বর্তমান পঁচে যাওয়া সমাজে সেটা একটু বেশিই দরকার।
মহাশিবরাত্রির শুভকামনা রইলো সকলের প্রতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ

ক্যাটাগরি