মহিউদ্দিন মহিন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্ট, ভোলা প্রকাশঃ
বাংলার গ্রামগঞ্জে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সেই আলোকে আরও প্রখর ও কার্যকর করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো বেসরকারি গ্রন্থাগারিকদের জন্য চার দিনব্যাপী এক অনন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এই আয়োজন শুধু একটি প্রশিক্ষণ ছিল না; বরং ছিল আত্মজাগরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি আলোকিত জাতি গঠনের প্রত্যয়ী অঙ্গীকার।
প্রশিক্ষণের প্রতিটি দিনই ছিল নতুন কিছু শেখার, নতুনভাবে ভাবার এবং নিজেদেরকে আরও দক্ষ করে তোলার এক অপূর্ব সুযোগ। আমরা অংশগ্রহণ করে এই চার দিনের অভিজ্ঞতা চিন্তা-চেতনায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। প্রশিক্ষকদের আন্তরিকতা, উপস্থাপনার দক্ষতা এবং প্রাঞ্জল কথাবার্তা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। কেউ কেউ বলেন, এই প্রশিক্ষণ শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, বরং জীবনচলার পথেও দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
২০ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মশালার চতুর্থ দিনে সকালবেলায় অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন লার্নিং সেশন, যেখানে গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং পাঠকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের নানা দিক তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে এসব সেশনে অংশ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং নতুন জ্ঞান আহরণ করেন।
বিকেলে আয়োজন করা হয় সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক জনাব এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব এ কে এম আবদুল্লাহ খান। স্বাগত বক্তব্যে উপপরিচালক জনাব মো. ফরিদ উদ্দিন সরকার প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “গ্রন্থাগার শুধু বইয়ের ভাণ্ডার নয়, এটি একটি সমাজ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।” অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ ইনামুল হক।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি শিক্ষিত ও সচেতন জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়মিত আয়োজন করা হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রন্থাগারগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং সেখানকার মানুষ জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্ত ছিল গর্ব, আনন্দ এবং প্রাপ্তির এক আবেগঘন অধ্যায়। অংশগ্রহণকারীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকদের প্রতি, যারা এমন একটি সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
গ্রন্থাগারভিত্তিক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ। কারণ, যখন গ্রামগঞ্জের পাঠাগারগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, তখন সেখানকার মানুষও হয়ে উঠবে জ্ঞানসমৃদ্ধ, দক্ষ এবং আত্মনির্ভর। আর একটি দক্ষ, সচেতন ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই পারে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে।
অতএব, বলা যায়—এমন প্রশিক্ষণই পারে একটি জাতির ভিত মজবুত করতে, অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা জ্বালাতে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের এই উদ্যোগ তাই কেবল একটি কর্মশালা নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় আগামী দিনের সূচনা।