ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে আবারও সরব হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী পোস্টের মাধ্যমে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এবং ভোলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে সামনে নিয়ে এসেছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি শেয়ার করেন তৌসিফ মাহবুব। ছবিতে তাকে ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিসংবলিত একটি টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, “ভোলার পোলা”। ছোট এই বাক্যটি যেন তার শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
তার এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ভক্ত-অনুরাগীসহ সাধারণ মানুষ পোস্টটিতে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই মন্তব্য করে ভোলা-বরিশাল সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হোক”, আবার কেউ বলেছেন, “আপনার মতো তারকারা এগিয়ে আসলে দাবি আরও জোরালো হবে।”
ভোলা জেলা ভৌগোলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হলেও এখনো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই দ্বীপ জেলাটি থেকে বরিশালসহ অন্যান্য জেলায় যেতে এখনো নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুই-ই বেশি লাগে, যা স্থানীয়দের জন্য দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি বহু বছর ধরে জোরালো হয়ে আসছে।
তৌসিফ মাহবুবের গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলায়। যদিও তিনি বর্তমানে পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করছেন, তবুও নিজ এলাকার প্রতি তার টান ও ভালোবাসা বিভিন্ন সময় প্রকাশ পেয়েছে। ভোলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে তাকে আগেও সোচ্চার হতে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রিয় তারকাদের এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাদের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হওয়ায় এমন বার্তাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমত গঠনে সহায়ক হয়।
সব মিলিয়ে, তৌসিফ মাহবুবের এই উদ্যোগ ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পের বিষয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ পাওয়া গেছে। এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই কমিটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রকল্পটি গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।