একটা সময় ছিল, ঢাকায় প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ভোলায় পৌঁছাতে লেগে যেত একদিন। দুপুরে এসে বিকেল-সন্ধ্যায় পাঠকের হাতে পৌঁছাত সেই পত্রিকা। তখন হাতে গোনা কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে মফস্বলের সংবাদ খুব একটা স্থান পেত না। ভোলার খবর প্রকাশিত হতো কেবল বড় কোনো দুর্যোগ বা উল্লেখযোগ্য ঘটনার সময়। সেই বাস্তবতায় ভোলা থেকে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের স্বপ্ন বুনেছিলেন অনেকেই।
সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেয় ‘দৈনিক আজকের ভোলা’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠাতার দীর্ঘ প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও আল্লাহর রহমতে আজ থেকে ৩৩ বছর আগে এই পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়—যা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অর্জন।
১৯৭৬ সালে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮০ সালে ‘সাপ্তাহিক ভোলা বাণী’ প্রকাশনায় সম্পৃক্ততা, পরবর্তীতে ঢাকা ও বিদেশে অবস্থানকালীন সময়েও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকা—সব মিলিয়ে প্রস্তুত হতে থাকে এক বড় উদ্যোগের ভিত্তি।
১৯৯১ সালে ‘দৈনিক আজকের ভোলা’র ডিক্লারেশন নেওয়া হলেও নানা কারণে তাৎক্ষণিক প্রকাশ সম্ভব হয়নি। তবে থেমে থাকেননি তিনি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্বদেশ প্রিন্টিং প্রেস’। অবশেষে ১৯৯৪ সালের ১২ এপ্রিল ভোলা কবি মোজাম্মেল হক টাউন হলে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দৈনিক আজকের ভোলা’র প্রকাশনা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতা, বিশেষ করে বিজ্ঞাপন বৈষম্যসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবুও পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় পত্রিকাটি আজ ৩৩ বছরে পদার্পণ করেছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রেখেছে পত্রিকাটি। সততা, নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে—যা ভবিষ্যতেও বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই অর্জনের দিনে পত্রিকার পক্ষ থেকে পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, সাংবাদিক, কর্মচারী, হকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা। সত্য ও সুন্দরের পথে অবিচল থেকে আগামীতেও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।