
ভোলা প্রতিনিধি।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার সাংবাদিক। এ সময় তাঁদের মারধর, দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামাল ওরফে ‘কাব জাব কামাল’সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলার অভিযোগ স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার হাকিমুদ্দিন বেড়িবাঁধসংলগ্ন মেঘনা নদীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি ও প্রতিদিনের কাগজ-এর বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রতিনিধি রিয়াজ ফরাজী, দৈনিক আলোচিত কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি মো. নুরনবী এবং স্থানীয় সাংবাদিক তুহিন ফরাজী ও মহসিন হাওলাদার।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শুক্রবার গভীর রাতে হাকিমুদ্দিন বেড়িবাঁধসংলগ্ন মেঘনা নদীতে একদল জেলে মা ইলিশ শিকার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য পেয়ে চার সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের বিষয়টি দেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামাল ওরফে ‘কাব জাব কামাল’, ফরহাদ, আজাদ, সোহেলসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে চার সাংবাদিক আহত হন। হামলার সময় তাঁদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের সময়ে অবৈধ মাছ শিকারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী জানান, এ ঘটনায় তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।