
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুরের মধ্যে যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ফুলকাচিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবাসী আল আমীনের বাড়িটিতে বর্তমানে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। আল আমীন ও তার ভাই দুজনেই প্রবাসে অবস্থান করছেন এবং শাশুড়ি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এই সুযোগে গৃহবধূ তাহমিনা বেগম তার ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
ঘটনার দিন সকালে নিজের বোন অসুস্থ হওয়ায় তাকে দেখতে ভোলায় যান তাহমিনা। যাওয়ার সময় বসতঘরের মূল দরজায় তালা লাগিয়ে যান তিনি। পরে দুপুর নাগাদ ভোলা থেকে ফিরে ঘরের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র চারদিকে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। এরপর ঘরের ভেতরের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা স্বর্ণালংকার খুঁজতে গিয়ে দেখেন সেখানে কিছুই নেই।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে ঘর থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
গৃহবধূ তাহমিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগেই এ ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা কীভাবে ঘরে প্রবেশ করল, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
প্রবাসী আল আমীনের বোন রুনা বলেন, “কিছুদিন আগেও আমার বাড়িতে দিনের বেলায় চুরি হয়েছে। এখন আমার ভাইয়ের ঘরেও একই কায়দায় চুরি হলো। এভাবে দিনের বেলা বাড়ি ফাঁকা পেয়ে চুরির ঘটনা ঘটায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রবাসীদের বাড়িগুলোকে টার্গেট করে একটি চক্র এ ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। দিনদুপুরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ শঙ্কিত।
খবর পেয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।