বিশেষ প্রতিনিধি, ভোলা।
ভোলায় বিএনপি অফিস ভাংচুর ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় আসামী ও ভোলা-১ আসনের সাবেক এমপি'র বাসায় প্রশাসনের সামনে শটগান দিয়ে গুলি চালানো সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মীর জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার দুপুরে ভোলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম মাহমুদুর রহমান আসামীদের জামিন না মঞ্জুর করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. খায়ের উদ্দিন সিকদার জানান, ২০১৯ সালের ৩ মার্চ ভোলা জেলা বিএনপি অফিসে হামলা ভাংচুরের ঘটনায় প্রায় ৬ বছর পর ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আসামীরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাবেক ভোলা পৌরসভার ৪ কাউন্সিলর
সহ ১৮ জন আসামী রবিবার (৯ মার্চ) ভোলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। ঘটনার সাথে আসামীরা সম্পৃক্ত না থাকার অজুহাতে তাদের পক্ষে এ জামিন আবেদন করা হয়। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার দোস্ত মাহমুদ ও সাবেক পৌর কাউন্সিল মিজানুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকী ১৬ জনের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান । এ আদেশের বিরুদ্ধে আসামী পক্ষ উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানান ওই আইনজীবী।
আসামিরা হলেন, কামাল হোসেন,সেলিম চৌধুরী,মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সাবেক কাউন্সিলর ফেরদাউস আহম্মেদ, সাবেক প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন, সাবেক কমিশনার শাহে আলম,সাবেক কাউন্সিলার আতিকুর রহমান, আবুল হাসনাত ইভান, সিরাজুল ইসলাম দিদার, আবুল কাশেম, জসিম উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন লিটন, রুহুল আমিন কুট্রি, মোহাম্মদ খোকন গরানী, মোরশেদ আলম চান, এবং ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা সন্ত্রাসী মো: জাকির হোসেন প্রমুখ।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, ফেসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পদ থাকাকালীন সময়ে জাকির হোসেন তুচ্ছ ঘটনাতে শটগানের গুলি চালিয়ে ভয়ভীতি দেখাতেন। ওই সময় সন্ত্রাসী জাকির সাবেক এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ'র বাসায় দিনে দুপুরে গুলি চালিয়ে শটগান হাতের ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোরণ সৃষ্টি হয়েছিলেন।