মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা:
ভোলায় আপন জন্মদাতা পিতার ধর্ষণের শিকার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে ইউসুফ নামের এক পাষন্ড বাবা দীর্ঘ সাত মাস ধরে নিজের মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।অভিযুক্তের নির্যাতনে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া মেয়েকে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন, তবে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে অভিযুক্ত ব্যক্তির নির্যাতনে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। ওই সময় তিনি নিজের কিশোরী মেয়েকে বাবার কাছে রেখে যান।
সম্প্রতি ওই কিশোরীর মা বাবার বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি এসে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে জানতে চাইলে সে মাকে সব খুলে বলে। ওই কিশোরী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন বাবা।
পরে ব্যাপারটি নিয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে উল্টো তিনি তাকে মারধর করেন। সেই সঙ্গে ওষুধ নিয়ে মেয়েকে গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন কিশোরীর মা।
ভিকটিমের মা তাসলিমা আরো জানিয়েছেন, মেয়েকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অভিযুক্ত বাবার ঘরে রাখা অবস্থায় মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেছেন।
ভোলা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মুক্তা আক্তার জানান, মেয়ের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসা চলমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতখান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম শিকদার আজকের পত্রিকাকে ৪
এপ্রিল রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,জন্মদাতা পিতা কর্তৃক আপন সন্তান কে ধর্ষণ করা হয়েছে,ধর্ষণের ঘটনায় বাবা ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে,তার মা তসলিমা বেগম বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন,মামলার পরে আসামিকে কোর্টে প্রেরণ করা হবে।
ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত চালমান রয়েছে।
এ ঘটনায় ভোলা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযুক্ত বাবার কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।