মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক,ভোলা:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে নববধূর স্বর্ণালঙ্কারাদি ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বর ও তার পরিবার।
সোমবার ২০ জুলাই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বর বিজয় লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত শনিবার রাতে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে পাশের বাড়ির যুবক আবির নববধূর জন্য কেনা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চুরি যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা যায়নি।
বিজয়ের দাবি, অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার মা-বাবার আকুতি-মিনতির পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে তা করা হয়নি। পরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মজনু বয়াতীর উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষ নগদ অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সালিশে এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজয় আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন অভিযুক্তের বাবা কামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাতে থাকেন। একই সঙ্গে সালিশে উপস্থিত ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মজনু বয়াতীর বিরুদ্ধেও মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করায় ক্ষুব্ধ হয়ে অপপ্রচারের জের ধরে অভিযুক্ত পক্ষ লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার ফুফু লাইজু বেগমকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজয় বলেন, "আমি নতুন বিয়ে করেছি। বিয়ের দিন হওয়ায় মানবিক কারণে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে না তুলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তারাই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং হামলাও করেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছেও আমাকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমরা চুরির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, হামলার বিচার এবং চুরি যাওয়া নগদ অর্থ উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।"
তিনি জানান, এ ঘটনায় তার ফুফু লাইজু বেগম বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় আবির, তার বাবা কামাল, মা অনু এবং চাচা জামালকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবির ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।