ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় সুমি বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় মাহি ভিলা নামে একটি টিনসেট ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত সুমি বেগম তার স্বামী উজ্জলের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। উজ্জল স্থানীয় মহিলা কলেজের উত্তর পাশে হেলিপ্যাড সংলগ্ন শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও তিনি ব্যবসার কাজে বাইরে ছিলেন।
বাড়ির মালিক আবুল বাশার মোঃ সহিদুল্লাহ জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার স্ত্রী সুমি বেগমের কক্ষের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়। পরে তিনি, সুমি বেগমের স্বামী উজ্জল এবং স্থানীয় কয়েকজন লোকজন মিলে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, ঘরের পূর্ব পাশের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সুমি বেগম ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। পরে দ্রুত তাকে নিচে নামিয়ে মেঝেতে শোয়ানো হয়। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় সুমি বেগম সবার অগোচরে গলায় ফাঁস দেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে অপমৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করছে।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ শুক্রবার ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ বা রহস্য রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।