ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব। দিন-রাত সড়ক, বাজার, অলিগলি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কুকুরের ঝাঁক ঘুরে বেড়ানোয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পৌরবাসী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কুকুরের আক্রমণের ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিন আগে পৌর শহরের উপজেলা সড়কের থানার সামনে সাইদুল নামে এক পথচারীকে হঠাৎ কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করে। এসময় কুকুরের কামড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ কোনো প্রয়োজনে রাতে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাত গভীর হলে কুকুরের দলবদ্ধ ঘোরাফেরা ও মানুষের পিছু নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বাজার এলাকা, হাসপাতাল সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, স্কুলের আশপাশ ও আবাসিক এলাকায় কুকুরের উৎপাত বেশি। প্রায় সময়ই কুকুরগুলো পথচারীদের তাড়া করে, মোটরসাইকেলের পেছনে ছুটে যায় এবং হঠাৎ আক্রমণাত্মক আচরণ করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল বলেন, “রাতের বেলা দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরতে ভয় লাগে। হঠাৎ দলবেঁধে কুকুর তেড়ে আসে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পরিবারগুলো অনেক দুশ্চিন্তায় আছে।”
অভিভাবক রিপা হোসেন বলেন, “স্কুলে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের সঙ্গে কাউকে না কাউকে দিতে হয়। কুকুরের ভয়ে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”
এদিকে কুকুরের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সংকটের অভিযোগও উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় অনেক রোগীকে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সচেতন মহল বলছে, দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার প্রশাসক রনজিৎ চন্দ্র দাস জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।