ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিনে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, মহামিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক উচ্ছ্বাসের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে বোরহানউদ্দিন ডাকবাংলোর সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বয়সী কয়েক শতাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক। এ সময় তারা আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরিধান করে এবং হাতে জাতীয় পতাকা ও আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভুভুজেলা, ঢোল, স্মোক ফ্লেয়ার ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে সমর্থকরা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পুরো শহরজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে এক প্রাণবন্ত আবহের সৃষ্টি হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মহামিলনমেলা ও আতশবাজি প্রদর্শনী। বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাঠজুড়ে সমবেত সমর্থকরা বিশ্বকাপকে ঘিরে নিজেদের প্রত্যাশা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ক্রীড়াচেতনা জাগিয়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যানসের অন্যতম সংগঠক আতিফ আসলাম রুবেল বলেন, “আর্জেন্টিনা আমাদের ভালোবাসা ও আবেগের একটি নাম। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বোরহানউদ্দিনের ফুটবলপ্রেমীদের একত্রিত করতেই আমরা এই আয়োজন করেছি। আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজ আরও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হোক এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।”
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থক মাহমুদ উল্লাহ ফয়েজ বলেন, “বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা এক আনন্দ কাজ করে। আজকের এই আয়োজন আমাদের সেই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আশা করি বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা ভালো খেলবে এবং শিরোপা ধরে রাখবে।”
আরেক সমর্থক নাজমুল আহসান ইভান বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু সমর্থকদের মিলনমেলাই নয়, এটি সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় করে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন।”
আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েও বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়াভিত্তিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের আরও কাছাকাছি আনা এবং খেলাধুলার ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উৎসবমুখর পরিবেশ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আতশবাজির ঝলকানিতে দিনব্যাপী এই আয়োজন ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বিশ্বকাপের আগাম আমেজ ছড়িয়ে দেয় পুরো বোরহানউদ্দিনজুড়ে।