মো.ছিদ্দিকুর রহমান সোহেল ভোলা প্রকাশঃ
ভোলার উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে এখনো বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে অসংখ্য স্কুলগামী কিশোরী। দারিদ্র্য, সামাজিক অনিরাপত্তা, ইভটিজিংয়ের ভয় এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবের কারণে অষ্টম, নবম কিংবা দশম শ্রেণিতে পড়া অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অপ্রাপ্ত বয়সেই তাদের বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হচ্ছে, ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, অনেক পরিবার মনে করে মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিলে পারিবারিক দায়িত্ব কমে যাবে। আবার নিরাপত্তার অজুহাতেও অনেক অভিভাবক অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। এতে কিশোরীরা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে এবং অল্প বয়সে মাতৃত্বের কারণে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অভিভাবকদের সচেতন করা এবং মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলা উপকূলের কিশোরীদের বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।