ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে পাওনা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইতে গিয়ে চরম হেনস্থা, এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন এক দম্পতি। ভুক্তভোগী সাহিদা বেগম ও তার স্বামীর অভিযোগ, দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু হাজী তাদের কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দীর্ঘ তিন বছরেও ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে দেউলা ইউনিয়নের ফজর আলী হাজী বাড়ির বাসিন্দা সাহিদা বেগমের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশল ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অর্থ ধার নেন বিএনপি নেতা বাবু। সে সময় তিনি তার ছেলের চাকরির প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে সাহিদা বেগমের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাহিদা বেগমের দাবি, মানবিক বিবেচনায় এবং প্রতিবেশী হিসেবে বিশ্বাস করে তিনি ওই অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ধার দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বাবু তা ফেরত দেননি। বরং বারবার সময় চেয়ে “দিচ্ছি”, “দেবো” বলে আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাহিদা বেগম ও তার পরিবার জোরালোভাবে তাদের পাওনা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দাবি করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত বাবু পাওনা পরিশোধের পরিবর্তে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং প্রকাশ্যে মারধর, অপমান ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটান। একই সঙ্গে তাদের এলাকা ছাড়া করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত বাবু এলাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তিনি দেউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেলের চাচাতো ভাই ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং পাওনা আদায়ের দাবিকে দমন করার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় সাহিদা বেগম ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তাদের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা বা ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ সদস্য আলহাজ হাফিজ ইব্রাহিমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।