ইউসুফ হোসেন অনিক, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিরপরাধ জেলেদের আটক করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মির্জাকালু নৌ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া সাধারণ জেলেদের অনেক সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই আটক করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নৌ ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অবৈধ জাল ব্যবহারের অভিযোগে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ফয়সাল নামে এক জেলে ও তার সহযোগীদের আটক করে মির্জাকালু নৌ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ফয়সালের বাড়ি বরিশালের মেহেদীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গজারিয়া এলাকায় মাছ ধরা শেষে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথে ভোলা খাল এলাকায় পৌঁছালে মির্জাকালু নৌ ফাঁড়ির সদস্যরা তার নৌকা থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পরে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
ফয়সালের ভাষ্য, “আমার নৌকায় কোনো কারেন্ট জাল ছিল না। আমরা সাধারণ জেলে মানুষ। মাছ ধরে পরিবার চালাই। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাকালু নৌ ফাঁড়ির এক সদস্য জানান, ফয়সালের নৌকায় ‘অনফ্লাই’ জাল পাওয়া গেছে। তার দাবি, এই জালটি কারেন্ট জালের সুতা মিশ্রিত হওয়ায় এটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। তিনি আরও বলেন, “অভিযানের সময় অবৈধ জাল উদ্ধার হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। এখানে কাউকে অহেতুক হয়রানি করা হয়নি।”
তবে স্থানীয় জেলেদের একাংশ অভিযোগ করেন, এর আগেও মির্জাকালু নৌ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে নিরপরাধ জেলে, মাছ ধরার জাল ও নৌকা আটক করে পরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের পরিবর্তে সাধারণ জেলেদেরও আটক করা হয়। তাদের অভিযোগ, উপর মহলের চাপ থাকলে দ্রুত মামলা দেখানোর জন্য যাচাই ছাড়াই জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া ফাঁড়ির আশপাশের কয়েকটি মৎস্যঘাট থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগও করেন তারা।
এদিকে জেলেদের এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ জাল ও নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান প্রয়োজন হলেও তা যেন নিরপরাধ মানুষের হয়রানির কারণ না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মির্জাকালু নৌ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং একই সঙ্গে নিরপরাধ জেলেরা হয়রানির শিকার হলে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।