নানা আয়োজনে বিএসএমএমইউয়ে শেখ রাসেল দিবস পালিত
স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলা প্রকাশঃ
বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল শেখ রাসেলকে যোগ্য হিসেবে তৈরী করা: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
শেখ রাসেলকে হত্যা মানবতার বিরুদ্ধে বিরাট অপরাধ:আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
নানা আয়োজনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল দিবস-২০২২ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় (১৮ অক্টোবর ২০২২) বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর বিÑব্লকে স্থাপিত ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন, টিএসসিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূূচি ও শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি আলোচনা সভা আয়োজিত হয়।

এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পঁচাত্তরের কালো রাত্রে ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঘাতকরা হামলার পর শিশু রাসেল ৩২ নম্বর বাড়ির দু’ তলা থেকে নিচে নেমে আসেন। এসময় শিশু রাসেল যখন ভয় পেয়ে বার বার মায়ের কাছে যেতে চাইলেন, অমানুষ, বিশ্বাস ঘাতক শিশু রাসলেকে হাতে ধরে মায়ের কাছে নিয়ে গেল। ঘাতকরা মায়ের নিথর দেহের সামনেই শিশু রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করে। একটি জন্তুও এ ধরণের শিশুকে হত্যা করতে পারত না! শেখ রাসেলকে হত্যা মানবতার বিরুদ্ধে বিরাট অপরাধ।
তিনি বলেন, একজন শিশু শেখ রাসেলের জীবন শুরুই হল না। কিন্তু কিভাবে শিশু রাসেলের জীবন নিভে গেল! এটি নির্মমতার প্রতীক। এ বয়সের শিশুরা এটা ওটা চায়। কিন্তু ঠিক এর বিপরীত ছিলেন শেখ রাসেল। সে গ্রামে যেতে ভালবাসতেন। গ্রামে যাবার সময় অনেক জিনিসপত্র নিয়ে যেতেন। গ্রামে গিয়ে গরীব ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের জিনিসপত্র দিতেন। গ্রামের গরীব মানুষদেরও জিনিসপত্র দিতেন। অন্যের সেবাই করাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে নির্মল ব্যক্তিত্ব, নিষ্পাপ ব্যক্তিত্ব ও নির্ভীক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় সকল রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে শেখ রাসেলকে নিয়ে যেতেন। বঙ্গবন্ধু বিশ্বের বড় বড় নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রো, গর্বাচভের পাশেও শেখ রাসেলকে নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেখ রাসেলকে যোগ্য হিসেবে তৈরী করা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বিদেশ থাকায় পঁচাত্তরের কালো রাত্রিতে বেঁচে গিয়েছিলেন। মোস্তাক জিয়ারা বঙ্গবন্ধুর সকল উত্তরাধিকার ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। শেখ রাসেলকে হত্যা করেছিল মোস্তাক জিয়া যাতে উত্তরাধিকার হিসেবে তারা দেশ শাসন করতে না পারে।
তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু শেখ রাসেলকে হত্যা করেছিল তারা পাকিস্তানের পেতাত্মা। এ খুনী পেতাত্মাদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখন সময় এসেছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বংশধরদের সাথেও আমাদের কথা না বলা। তারা যাতে ক্ষমতায় না আসে সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য ( গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য ( শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য ( প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএসএমএমইউ'র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তপাদার।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদনা: সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম ইয়ার ই মাহাবুব ও সুব্রত বিশ্বাস। ছবি: আরিফ খান ও সোহেল গাজী। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার ও সুব্রত মন্ডল।