বিজয় বাইন ।।
‘মা তুমি নেই, তবু তুমি আছো আমার প্রতিটি প্রার্থনায়, আমার প্রতিটি নিশ্বাসে।’
মাকে হারানোর চার বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের হিসাবে চারটি বছর, অথচ সন্তানের হৃদয়ে মায়ের স্মৃতি আজও আগের মতোই অমলিন। মায়ের স্নেহমাখা মুখ, মমতাভরা কণ্ঠ, আদরের ডাক আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বারবার মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে মায়ের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
প্রিয় জননী স্বর্গবাসী সীতা রানী বাইনের চতুর্থ তিরোধান দিবসে এমনই আবেগ, ভালোবাসা ও প্রার্থনায় মাকে স্মরণ করছেন তাঁর সন্তান, ভোলা প্রকাশের সম্পাদক বিজয় বাইন। মায়ের প্রতি গভীর অনুরাগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর স্মৃতিচারণে।
মা—ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর গভীরতা অসীম। পৃথিবীর সব ভালোবাসার সঙ্গে যার তুলনা চলে না, যার আঁচলে সন্তান খুঁজে পায় নিরাপদ আশ্রয়, যার নিঃস্বার্থ স্নেহে জীবন হয়ে ওঠে পূর্ণ—সেই মা হারানোর বেদনা কোনো ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। দিন পেরিয়ে বছর আসে, কিন্তু মায়ের স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না। হৃদয়ের গভীরে তিনি বেঁচে থাকেন আজীবন।
প্রিয় মা সীতা রানী বাইনের চতুর্থ তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বাল্যসেবার আয়োজন করা হয়েছে। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ভোলা রাধা রাসবিহারী মন্দিরে ভোগ-রাগ নিবেদন, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও মহাপ্রসাদ গ্রহণের আয়োজন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভোলার দেবেন্দ্র কাহালী লেন পাড়ার ‘ক্ষণিকের নীড়’-এ বাল্যসেবার আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র দামোদর মাসে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে প্রয়াত মায়ের চিরশান্তি ও পরমকল্যাণ কামনায় প্রার্থনা জানানো হবে। প্রার্থনা, মা যেন গোলক বৃন্দাবনধামে পরমেশ্বর ভগবানের চরণসেবা লাভ করতে পারেন।
মাকে হারানোর চার বছর—ক্যালেন্ডারের পাতায় হয়তো সময়ের হিসাব, কিন্তু একজন সন্তানের কাছে এটি প্রতিদিন মাকে নতুন করে অনুভব করার গল্প। মা নেই, অথচ তাঁর স্মৃতি আছে। তাঁর সান্নিধ্য নেই, অথচ ভালোবাসার অনুভূতি আজও হৃদয়জুড়ে। জীবনের সুখ-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায় মায়ের অভাব বারবার অনুভূত হয়।
সন্তানের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্রয় মায়ের সান্নিধ্য, সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মায়ের কোল। সেই কোল শূন্য হয়ে গেলে জীবনের কোনো অর্জনই যেন সেই অভাব পূরণ করতে পারে না। তবু বিশ্বাস, ভালোবাসা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সন্তান মাকে বাঁচিয়ে রাখে নিজের প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
প্রিয় জননী সীতা রানী বাইনকে স্মরণ করে বিজয় বাইনের হৃদয়ের আকুতি—মৃত্যু দেহের বিদায় ঘটায়, কিন্তু মায়ের প্রতি ভালোবাসার মৃত্যু ঘটাতে পারে না। মা থাকেন প্রার্থনায়, স্মৃতিতে, প্রতিটি নিঃশব্দ কান্নায় এবং জীবনের প্রতিটি সুখ-দুঃখের মুহূর্তে।
‘ভালো থাকুক সেই সন্তানগুলো, যারা “মা” শব্দের গভীরতা বোঝে। মায়ের নাম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সবার মায়ের পরিচয় একটাই—মা।’
প্রিয় মা জননী, তুমি ভালো থেকো পরমেশ্বরের চরণে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে গোলক বৃন্দাবনধামে তাঁর চরণসেবা লাভের সৌভাগ্য দান করুন—এই প্রার্থনাই রইল হৃদয়ের গভীর থেকে।
চিরদিন তুমি আমাদের হৃদয়ে
প্রিয় মা জননী সীতা রানী বাইন, তোমার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত প্রণাম ও অফুরন্ত ভালোবাসা।ওঁ শান্তি। হরে কৃষ্ণ।
স্মৃতিচারণ: বিজয় বাইন
সম্পাদক, ভোলা প্রকাশ